রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলায় নাটকীয় মোড়। যখন কর্মীরা আশা করেছিলেন হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য বকেয়া মেটানোর পথে হাঁটবে, ঠিক তখনই হঠাৎ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের এই আকস্মিক পদক্ষেপে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
কেন হঠাৎ সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য? সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক কিছু নির্দেশ এবং বকেয়া মেটানোর ডেডলাইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই শীর্ষ আদালতে ‘স্পেশাল লিভ পিটিশন’ (SLP) দাখিল করেছে নবান্ন। রাজ্যের যুক্তি— বিপুল পরিমাণ বকেয়া ডিএ একসঙ্গে মেটাতে গেলে রাজ্যের কোষাগারে টান পড়বে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে ২০২৬-এর নির্বাচনের মুখে এই বিপুল আর্থিক দায়ভার নিতে রাজ্য সরকার যে এখনই প্রস্তুত নয়, তা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট।
সরকারি কর্মীদের প্রতিক্রিয়া: রাজ্যের এই পদক্ষেপে কার্যত ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’ দেখছেন আন্দোলনরত সরকারি কর্মীরা। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
বিশ্বাসভঙ্গ: আন্দোলনকারী মঞ্চের দাবি, সরকার বারংবার আলোচনার কথা বললেও আসলে সময় নষ্ট করতে চাইছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া মানেই মামলাকে আরও দীর্ঘায়িত করা।
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি: ‘যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ’-এর নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করা থেকে শুরু করে আইনি মোকাবিলায় তাঁরা সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আন্দোলন জোরদার: নবান্ন অভিযানের মতো বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সাফ কথা, “ন্যায্য পাওনা পেতে আমাদের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?”
বিরোধীদের কটাক্ষ: সুজন চক্রবর্তী থেকে শুভেন্দু অধিকারী— সকলেই একসুরে রাজ্যের এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে উৎসব আর মেলার জন্য দেদার টাকা খরচ করা হচ্ছে, আর অন্যদিকে নিজের কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত রেখে প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কী? আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শীর্ষ আদালত যদি হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ না দেয়, তবে রাজ্য সরকারকে চাপে পড়তে হতে পারে। তবে আপাতত সরকারি কর্মীদের কাছে এই খবরটি অত্যন্ত হতাশাজনক।





