‘ডক্টরস গ্যাং’ তুলেছিল ২০ লাখ টাকা! আইইডি-র জন্য কেনা হয়েছিল ২০ কুইন্টাল সার, ধৃত আরও এক চিকিৎসক

দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে (Delhi Blast) ফের প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড উমর-উন-নবি এবং ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের ডায়েরির হদিশ পেয়েছে পুলিশ। ওই ডায়েরিতে সাঙ্কেতিক ভাষায় লেখা বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সঙ্কেত ডিকোড (Decode) করলেই জঙ্গিদের গোপন ও বৃহত্তর পরিকল্পনার সম্পূর্ণ আঁচ মিলতে পারে।

চার শহরে একযোগে বিস্ফোরণের ছক, ২৫ জনের নাম!

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডায়েরিতে ৮ থেকে ১২ নভেম্বরের বিশেষ উল্লেখ ছিল। বিস্ফোরণ ঘটেছে ১০ নভেম্বর, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে আরও বড়সড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ডায়েরিতেই মোট ২৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ২৫ জন ছিল দলের বাকি সদস্য। এদের বেশিরভাগই জম্মু-কাশ্মীর এবং ফরিদাবাদের বাসিন্দা।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ‘ডক্টরস গ্যাং’ আটজন মিলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র করেছিল।

তাদের পরিকল্পনা ছিল চারটি শহরে একই সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর।

জঙ্গিরা দুটি করে সদস্য নিয়ে চারটি দলে ভাগ হয়ে বিস্ফোরণের ছক কষেছিল।

জানা গেছে, জঙ্গিরা ওই চারটি শহরে রেকিও করেছিল এবং প্রতিটি দলের কাছে একাধিক আইইডি (IED) মজুত রাখার পরিকল্পনা ছিল।

২০ লাখ টাকা সংগ্রহ, ২০ কুইন্টাল সার কিনেছিল জঙ্গিরা

তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণের আগে অর্থ সংগ্রহের কাজও শুরু করেছিল ‘ডক্টরস গ্যাং’। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, আদিল আহমেদ রাথরে, শাহিন শাহিদ এবং উমর-উন-নবি যৌথভাবে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছিল। পরে পুরো টাকা মাস্টারমাইন্ড উমর-উন-নবির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আইইডি (IED) তৈরির জন্য গুরুগ্রাম ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ২০ কুইন্টালের বেশি এনপিকে (NPK) সার কেনা হয়, যার দাম ছিল ৩ লক্ষ টাকা। টাকার হিসেব নিয়ে উমর-উন-নবির সঙ্গে মুজাম্মিল শাকিলের বিরোধ বেঁধেছিল বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। বিস্ফোরণের জন্য i20 ও লাল ইকো স্পোর্টস ছাড়া আরও ২টি গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের আগে মাস্টারমাইন্ড উমর একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপে ২ থেকে ৪ জনের গ্রুপ খুলেছিল।

কানপুর থেকে আটক আরও এক চিকিৎসক

দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে কানপুর এটিএস (ATS) আরও এক চিকিৎসককে আটক করেছে। আটক চিকিৎসকের নাম আরিফ, যিনি কানপুর মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, বিস্ফোরণের দিন শাহিন শাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আরিফ। শাহিনের ভাইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তাঁর। কানপুর থেকে পালানোর সময় আরিফকে আটক করা হয়। এদিকে, নিরাপত্তার কারণে দিল্লিতে এখনও পর্যটকদের জন্য লালকেল্লা ও লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন বন্ধ রয়েছে।