ট্রেনে ধূমপান বা হকারি করলেই বিপদ! রেলের নয়া নিয়মে জরিমানা বাড়ল ১০ গুণ, বাতিল হবে টিকিটও

ভারতীয় রেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর নিয়ম কার্যকর করতে চলেছে কেন্দ্র। মূলত যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ট্রেনের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে ‘জন বিশ্বাস আইন ২০২৬’-এর আওতায় রেলের আইন ও শাস্তির বিধানগুলো আরও কঠোর করা হয়েছে। এতদিন সাধারণ যাত্রীদের একাংশের মধ্যে আইন অমান্য করার যে প্রবণতা ছিল, তা রুখতে এবার জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণ ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ধূমপানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স:
ভারতীয় রেলওয়ের ১৬৭ ধারায় আগে থেকেই ট্রেন ও রেলস্টেশনে ধূমপান নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু জরিমানার অঙ্ক ২০০ টাকা থাকায় অনেকেই তা গুরুত্ব দিতেন না। নতুন নিয়মে রেলওয়েজ অ্যাক্টের ১৬৭(৩) ধারায় ধূমপায়ীদের জন্য ২০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। শুধু জরিমানাই নয়, ধরা পড়লে ওই যাত্রীর টিকিট বাতিল করে তাঁকে মাঝপথেই ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে পারবেন টিটিই বা রেল আধিকারিকরা। যদি যাত্রী জরিমানা দিতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁকে আদালতে তোলা হবে, যেখানে জরিমানার অঙ্ক ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
অবৈধ হকারদের জন্য কড়া বার্তা:
ট্রেনে বিনা লাইসেন্সে হকারি করা এবং যাত্রী এলাকায় পণ্য বিক্রি রেলওয়ে অ্যাক্ট ১৯৮৯-র ১৪৪ ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। নতুন জন বিশ্বাস আইনে এই অপরাধের জরিমানা ২০০০ টাকা করা হয়েছে। বিনা লাইসেন্সে হকারি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আদালতে পেশ করা হবে এবং সেখানে তিন মাসের জেল অথবা ৫০০০ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের ফলে ট্রেনের ভিড় ও অপ্রীতিকর পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিক্ষাবৃত্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:
ট্রেনে বা প্ল্যাটফর্মে ভিক্ষাবৃত্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও, এতদিন কঠোর প্রয়োগের অভাব ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেউ ভিক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়লে তাঁকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে এবং ২০০০ টাকা জরিমানা করা হবে। জরিমানা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে রেলওয়েজ অ্যাক্টের ১৪৪(২) ধারায় তিন মাসের জেল অথবা ৫০০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যদি কেউ একই অপরাধ চারবারের বেশি করেন, তবে ১৪৪(৩) ধারার অধীনে তাঁকে এক বছরের জেল বা ৫০০০ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।
রেল কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাত্রীদের সুস্থ ও নিরাপদ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়াই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ ভারতীয় রেলে যাতায়াত করেন। তাঁদের সুবিধার্থেই আইনগুলো আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে, আইন মেনে চলতে এবং রেলে ভ্রমনের সময় কোনো ধরনের অবৈধ কাজে লিপ্ত না হতে। অন্যথায়, নিয়ম ভাঙলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। রেলের এই নতুন কঠোর অবস্থানের ফলে ট্রেন ও স্টেশনের সার্বিক পরিবেশ আগামী দিনে অনেক উন্নত ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করছে রেল মন্ত্রক।