সাধারণত ট্রেনের বাথরুমে কোনো দামী জিনিস হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় কেউই রাখেন না। কিন্তু আহমেদাবাদ স্টেশনের এক অবিশ্বাস্য ঘটনা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। দুর্গন্ধময় শৌচাগারের ট্যাঙ্ক ও নর্দমার ময়লা ঘেঁটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে এক যাত্রীর লক্ষাধিক টাকার সোনার আংটি উদ্ধার করে নজির গড়লেন ভারতীয় রেলের কর্মীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে বান্দ্রা টার্মিনাস–ভুজ স্পেশাল (ট্রেন নং ০৯০৩৭)-এ। ট্রেনের বি-৮ কোচের এক যাত্রী শৌচাগার ব্যবহার করার সময় অসাবধানতাবশত তাঁর আঙুল থেকে দামী সোনার আংটিটি খুলে কমোডে পড়ে যায়। মুহূর্তে সেটি পাইপ বেয়ে ট্রেনের শৌচাগারের নীচের ময়লা-ট্যাঙ্কে বা সেপটিক ট্যাঙ্কে চলে যায়। যাত্রীটি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে জানান।
আহমেদাবাদ স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছানোমাত্রই ড্রেনেজ ক্লিনিং ও টেকনিক্যাল টিমের কর্মীরা দ্রুত কাজে নেমে পড়েন। নাকে রুমাল দিয়েও যে অসহ্য দুর্গন্ধ সহ্য করা কঠিন, সেই সেপটিক ট্যাঙ্ক এবং পাইপলাইনের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তাঁরা তল্লাশি চালান। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই—যাত্রীর আবেগ ও মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে সেই সোনার আংটিটি খুঁজে পাওয়া যায় এবং পরিষ্কার করে যাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আহমেদাবাদের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) বেদ প্রকাশ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ এই ঘটনার ছবি ও বিবরণ শেয়ার করেছেন। তিনি গর্বের সঙ্গে লিখেছেন, “আংটি যখন যাত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া হল, তাঁর মুখে যে তৃপ্তির হাসি ছিল তা দেখার মতো। ভারতীয় রেল শুধু যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছায় না, তাঁদের বিশ্বাস ও আবেগকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সুরক্ষিত রাখে।”
রেলকর্মীদের এই মানবিক ও সৎ প্রচেষ্টায় নেটিজেনরা উচ্ছ্বসিত। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই কর্মীদের মনোবল বাড়াতে পদোন্নতি বা বিশেষ পুরস্কার দেওয়া উচিত। মূলত ভারতীয় রেলের ‘অপারেশন আমানত’ কর্মসূচির অধীনে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং অন্যান্য কর্মীরা প্রতিদিন এভাবেই যাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া ফোন, ল্যাপটপ, ওয়ালেট এবং গয়না উদ্ধার করে আসল মালিকের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন। আহমেদাবাদ ডিআরএম দলের এই কাজ আবারও প্রমাণ করল যে রেলকর্মীরাই সাধারণ মানুষের প্রকৃত নায়ক।





