ট্রেনের এসি কোচে সবচেয়ে বেশি চুরি হচ্ছে কী? গত ৪ বছরের হিসেব সামনে আসতেই চমকে গেল রেল!

ভারতীয় রেলের এসি কোচে যাতায়াত করেন? তবে সাবধান! আপনার পাশের যাত্রীই হয়তো সুযোগ বুঝে ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন রেলের সম্পদ। সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে আরটিআই (RTI) তথ্যের ভিত্তিতে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো惊কপ্রদ। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত চার বছরে ভারতীয় রেলের এসি কোচ থেকে উধাও হয়ে গেছে ১ কোটি ২৭ লক্ষেরও বেশি বেডরোল সামগ্রী। যাত্রীদের এই ‘হাতটান’ স্বভাবের কারণে রেলের কোষাগারে বড়সড় টান পড়েছে।
চুরির চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান
২০২০ সালে করোনা অতিমারীর কারণে রেলের বেডরোল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রায় দু’বছর পর ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে এই পরিষেবা পুনরায় চালু হয়। এরপর থেকেই হু হু করে বাড়তে থাকে চুরির ঘটনা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চুরির প্রবণতা প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চুরি যাচ্ছে বিছানার চাদর, তোয়ালে, কম্বল, বালিশ ও তার কভার। এমনকী, প্রতি ১,০০০ জন এসি যাত্রীর মধ্যে অন্তত একজন যাত্রীর ব্যাগে মিলছে রেলের চুরি করা সামগ্রী।
ক্ষতির পরিমাণ ১০৪ কোটি ছাড়িয়েছে
এই বিপুল পরিমাণ চুরি শুধু রেলের সম্পত্তি নষ্ট করছে না, বরং এর বড় খেসারত দিতে হচ্ছে ঠিকাদার সংস্থাগুলোকে। গত চার বছরে বেডরোল সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর আনুমানিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০৪.৫১ কোটি টাকা। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের ৬৯টি রেল ডিভিশনের মধ্যে মাত্র ৫৪টি ডিভিশন আরটিআই-এর জবাব দিয়েছে। এর মধ্যে আবার ৯টি ডিভিশন সামগ্রীর সঠিক আর্থিক মূল্যই জানাতে পারেনি। ফলে, চুরির প্রকৃত অঙ্ক যে আরও অনেক বেশি, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
সাধারণ কর্মীর মাথায় আকাশ
রেল নিয়মানুযায়ী, কোচ অ্যাটেনডেন্টদের নজরদারিতে এই কিটগুলি দেওয়া হয়। যাত্রীরা চুরি করলে দায়ভার গিয়ে পড়ে এই অস্থায়ী কর্মীদের ওপর। সামগ্রী কম পড়লে অনেক সময় তাদের বেতন থেকেই টাকা কেটে নেওয়া হয়, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের অবস্থান
প্রতি রাতে ভারতীয় রেল প্রায় আট লক্ষ এসি যাত্রীকে বেডরোল কিট সরবরাহ করে। রেল আধিকারিকদের দাবি, মোট সরবরাহের তুলনায় চুরির হার খুব বেশি না হলেও, যেভাবে প্রতি বছর চুরির ঘটনা বাড়ছে, তাতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন। যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ রেলের সামনে। ট্রেনের মতো গণপরিবহণে এমন চুরির ঘটনা কেবল সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার অভাবকেও প্রকট করে তুলছে।