পশ্চিমবঙ্গের রেল যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত ছিল। বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকার ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে পূর্ব রেলওয়ের থমকে থাকা প্রকল্পগুলিতে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
বিপজ্জনক সেতু এবং পরিকাঠামোর অবনতি সম্পর্কে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও আগের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর সবথেকে ভয়াবহ উদাহরণ হাওড়া স্টেশনের কাছে বেনারস এবং চন্দ্রিমা রোড ওভার ব্রিজ। রেলের পক্ষ থেকে চরম সতর্কতা জারি করার পরেও রাজ্য সরকার ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি দিতে গড়িমসি করে। যার চূড়ান্ত পরিণতি চন্দ্রিমা ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি প্রশাসনের চরম উদাসীনতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর নিজে এই প্রকল্পগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। রেলওয়ে ১০০% তহবিল সরবরাহ করতে রাজি থাকলেও রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে কাজের মরসুমটি নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বেনারস সেতু প্রতিস্থাপনের মতো কাজ, যার জন্য চার মাস নিরবচ্ছিন্ন সময়ের প্রয়োজন, তা অনুমোদনের অভাবে ঝুলে ছিল।
শুধু সেতু নয়, নৈহাটি-রানাঘাট এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর সেকশনের তৃতীয় লাইনের কাজও থমকে আছে জমি সংক্রান্ত জট এবং জেলা কর্তৃপক্ষের মানচিত্র পরিবর্তনের জেদ ধরবার কারণে। পাঁচ বছর আগে ঘোষিত সাঁইথিয়া বাইপাস প্রকল্পের জমিও হস্তান্তর করা হয়নি। এমনকি চন্দনপুর-শক্তিগড় বা ডানকুনি-বাল্টিকুরি ৩য় ও ৪র্থ লাইনের মতো বড় প্রকল্পগুলির জন্য এপ্রিল ২০২৫-এ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (CALA) নিয়োগের অনুরোধ করা হলেও বিদায়ী সরকার সেই প্রাথমিক পদক্ষেপটিও নেয়নি।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ। নতুন প্রশাসনিক পরিবেশে জমি অধিগ্রহণ এবং ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্বে আধুনিক এবং নিরাপদ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার যে রূপকল্প তা এবার বাস্তবায়নের দোরগোড়ায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের সময় বাঁচাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এবার এই থমকে থাকা কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।





