রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কিনারা থেকে আপাতত ফিরল বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান সরকার দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই বিরতিকে নিছক ‘শান্তি’ নয়, বরং আমেরিকার ‘চরম পরাজয়’ এবং নিজেদের ‘কূটনৈতিক জয়’ হিসেবে দাবি করছে তেহরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
১০ দফা দাবি ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: ইরানের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন নীতিগতভাবে তাদের ১০টি শর্ত মেনে নিয়েছে। চুক্তির সবথেকে বড় চমক হলো— কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন থেকে সরাসরি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইরান মনে করছে, এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এছাড়াও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং ইরানের ওপর থেকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতেও ওয়াশিংটন প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে বলে খবর।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও ‘ইসলামাবাদ ডায়লগ’: এই জটিল রফাসূত্র বের করার নেপথ্যে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। তেহরানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে খুব শীঘ্রই ইসলামাবাদে মেগা বৈঠকে বসতে পারে দুই পক্ষ। যেখানে আমেরিকার পক্ষে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকতে পারেন।
“হাত ট্রিগারেই আছে”: তেহরানের হুঁশিয়ারি যুদ্ধবিরতি চললেও সুর নরম করেনি ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “আমেরিকার প্রতি আমাদের চরম অবিশ্বাস রয়েছে। যদি এই আলোচনা চূড়ান্ত রাজনৈতিক সাফল্যে না পৌঁছায়, তবে আমরা আবারও রণক্ষেত্রে ফিরব। আমাদের হাত ট্রিগারেই আছে, শত্রু সামান্য ভুল করলেই পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়া হবে।”
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সরাসরি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনও কিছুই চূড়ান্ত নয়। আপাতত এই ১৪ দিনের ওপরই ঝুলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।





