ট্রাম্প প্রশাসন কি ইরানের ওপর পরমাণু বোমা ফেলার পরিকল্পনা করছে? প্রাক্তন মার্কিন সাংসদের বিস্ফোরক দাবিতে বিশ্বজুড়ে চরম শোরগোল!

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক অপ্রত্যাশিত ও মারাত্মক বোমা ফাটিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন। তাঁর করা এক সুনির্দিষ্ট ও চাঞ্চল্যকর দাবিতে গোটা বিশ্বজুড়ে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গ্রিনের সরাসরি অভিযোগ, বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নাকি গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। শুধু তাই নয়, এই ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত করার জন্য হোয়াইট হাউসের উচ্চপদস্থ নীতি নির্ধারক কর্মকর্তারা নাকি ইতিমধ্যেই একাধিক অত্যন্ত গোপনীয় স্ট্র্যাটেজি মিটিং বা কৌশলগত বৈঠকও সেরে ফেলেছেন। গত রবিবার জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (দুর্বৃত্ত টুইটার) একটি দীর্ঘ পোস্টে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।
নিজের দাবির সপক্ষে রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টে মার্জোরি টেলর গ্রিন অত্যন্ত কড়া ভাষায় লিখেছেন যে, হোয়াইট হাউসের অন্দরে চলা এই পরমাণু সংক্রান্ত গোপন আলোচনাগুলি ‘সম্পূর্ণরূপে সত্যি’। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক নীতি ও পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সুদীর্ঘ নিয়মকানুনগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে শিথিল করারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই প্রাক্তন মার্কিন সাংসদ। তবে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে এই মুহূর্তে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করা এই বিস্ফোরক দাবিগুলির সপক্ষে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা সরকারি নথি জনসমক্ষে পেশ করেননি। এমনকি, হোয়াইট হাউসের ঠিক কোন কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওই গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের নাম বা পরিচয়ও তিনি প্রকাশ করতে বিরত থেকেছেন।
গ্রিনের আরও অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তৈরি করা সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলিকে নাকি বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন সম্পূর্ণ পাত্তা দিচ্ছে না বা পাত্তাই দিতে চাইছে না। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের ওই গোপন রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, ইরান এই মুহূর্তে পরমাণু বোমা তৈরির কাছাকাছিও কোথাও নেই। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার সেই সতর্কবার্তাকে পাশ কাটিয়ে ওয়াশিংটন বর্তমানে মূলত ইজরায়েলের কড়া অবস্থানের কথাই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর দাবি। মার্কিন প্রশাসনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গ্রিন বলেছেন যে, আমেরিকা যদি সত্যিই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে একটি বিরাট আকারের সর্বনাশা যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে, যার জেরে ব্যাপক প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক ও অপূরণীয় ধস নামার গভীর আশঙ্কা রয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি আমেরিকার তরুণ প্রজন্মকে আর কোনো নতুন বিদেশি সংঘাতে বা যুদ্ধে জড়াবেন না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের এই পদক্ষেপ তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এর ফলে সরাসরি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এদিকে, প্রাক্তন মার্কিন সাংসদের এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর ও মারাত্মক অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি। তাছাড়া, মার্কিন সরকারের কোনো দায়িত্বশীল মন্ত্রী বা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে ওয়াশিংটন সত্যিই ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছে কিংবা তাদের প্রচলিত পরমাণু নীতিতে কোনো বদল এনেছে।
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও চরম সামরিক উত্তেজনা লেগেই রয়েছে। আমেরিকা একদিকে যেমন হরমুজ প্রণালীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক জলপথে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশভাবে বজায় রেখেছে, তেমনই লাগাতার ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। অন্যদিকে, ইরানের সরকার ও সামরিক নেতৃত্বও ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী মনোভাব মেনে নিতে সম্পূর্ণ নারাজ। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলারও প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে রেখেছে তেহরান। এমনকি ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি মার্কিন সৈন্যদের ধরিয়ে দিলে বা হত্যা করতে পারলে লোভনীয় পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করেছিলেন, যা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা ও উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই তীব্র উত্তেজনার আবহে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো স্থায়ী কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মার্জোরি টেলর গ্রিন নিজে বরাবরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন কট্টর রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক বিদেশনীতির সমালোচনা তিনি এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন ইরানের একটি পরমাণু কেন্দ্রে আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছিল, তখনও তিনি প্রকাশ্যেই প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর সেইসময়ের অভিযোগ ছিল যে, বর্তমান প্রশাসন বিদেশে যুদ্ধ না করার তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোপুরি সরে আসছে। তাঁর এই সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য আবারও তাঁকে তাঁর দলীয় নেতার বিদেশনীতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যদিও তিনি নিজেকে ট্রাম্প শিবিরের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবেই দাবি করে চলেছেন। সবমিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করলেও, আমেরিকা যে সত্যিই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে—এমন কোনো বাস্তব বা সরকারি তথ্য এখনও পর্যন্ত সামনে না আসায় গ্রিনের এই দাবি আপাতত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেবল এক বিশাল জল্পনা এবং আতঙ্কের কারণ হয়েই রয়েছে।