ট্রাম্প-পেজেস্কিয়ানের ডিজিট্যাল সইয়ে থামল ১৫ সপ্তাহের লড়াই, খুলল হরমুজ প্রণালী!

অবশেষে ১৫ সপ্তাহের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বশান্তির পথে এক বড় পদক্ষেপ নিল আমেরিকা ও ইরান। দুই রাষ্ট্রশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো বহু প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি। যদিও শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক সই-সাবুদের কথা ছিল, তবে তার দুইদিন আগেই বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা সম্পন্ন করলেন।
চুক্তির নেপথ্য কাহিনী:
গত রবিবারই চুক্তির খসড়াপত্রে সই করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। সেই সময়ই চুক্তিটি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। হোয়াইট হাউজ সূত্রে খবর, বুধবার জি৭ সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজের ফাঁকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। পুরো সই-সাবুদের বিষয়টি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের সরকারি তরফেও তাদের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থনীতি ও হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব:
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হলো হরমুজ প্রণালী। প্রায় চার মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইরান সংঘাতে এই জলপথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় ধাক্কা লেগেছিল। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল এই প্রণালীকে পুনরায় সচল করা। সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, সই-সাবুদ হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে এবং বিশ্ব শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের আবহে যে অর্থনৈতিক মন্দার আতঙ্ক গ্রাস করেছিল, এই চুক্তির হাত ধরে তা কাটবে বলেই আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ভবিষ্যৎ রণকৌশল:
জেনেভায় যে শান্তিচুক্তির বৈঠক নির্ধারিত ছিল, তা নিয়ে এখনও জল্পনা অব্যাহত। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, শুক্রবারের সম্ভাব্য বৈঠকটি আর চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নয়। তবে দুই দেশের আলোচক দল জেনেভায় বৈঠক করার পরিকল্পনা এখনও পুরোপুরি বাতিল করেনি। বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব। তবে আপাতত ট্রাম্প ও পেজেস্কিয়ানের এই ডিজিটাল সই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আতঙ্ক কমিয়ে এক নতুন স্থিতিশীলতার বার্তা পৌঁছে দিল।