সোনা ও রুপো প্রেমীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর! জানুয়ারি মাসের সেই আকাশছোঁয়া রেকর্ড দর থেকে বর্তমানে অনেকটাই সস্তা হয়েছে এই দুই মূল্যবান ধাতু। পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারির সর্বোচ্চ দামের তুলনায় সোনা বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৪৫,০০০ টাকা এবং রুপো প্রতি কেজিতে প্রায় ১.৮৫ লক্ষ টাকা সস্তা হয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ভারতীয় বাজারে রুপো এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যার দাম ছিল প্রতি কেজি ৪,২০,০৪৮ টাকা। ঠিক একইভাবে সোনার দামও পৌঁছে গিয়েছিল ১.৯৩ লক্ষ টাকার (প্রতি কেজি) রেকর্ড ঘরে। কিন্তু সোমবার, ৬ এপ্রিলের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদিন সকালে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৩০০ টাকারও বেশি কমেছে। বর্তমানে রুপোর বাজার দর ২.৩৪ লক্ষ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, যা সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ১.৮৫ লক্ষ টাকা কম।
আমদানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি দাম বাড়া সত্ত্বেও ২০২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ১১ মাসে ভারতে সোনা ও রুপোর আমদানিতে জোয়ার দেখা গিয়েছে। বিয়ের মরসুম এবং সামনেই অক্ষয় তৃতীয়া থাকায় সোনার আমদানি বেড়েছে ২৯ শতাংশ। অবাক করা বিষয় হলো, রুপোর আমদানি বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ! ভারত মূলত সুইজারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে সিংহভাগ সোনা আমদানি করে থাকে।
কেন এই অস্থিরতা? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় রেখেছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রভাবে বিশ্ববাজারে রুপোর দরে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে রেকর্ড উচ্চতা থেকে তা এখনও অনেক নিচেই রয়েছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও শিল্পের চাহিদা গয়না শিল্পের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল সেক্টরে রুপোর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমদানি কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় করতে এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় সরকার সোনা, রুপো ও প্ল্যাটিনাম দিয়ে তৈরি ফিনিশড্ পণ্যের আমদানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
অক্ষয় তৃতীয়ার আগে সোনার এই বড় মাপের পতন কি গয়না বিলাসীদের মুখে হাসি ফোটাবে? না কি যুদ্ধের প্রভাবে ফের বাড়তে শুরু করবে দাম? নজর এখন বিশ্ববাজারের দিকে।





