মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ভারসাম্যের নামে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার এক যুগান্তকারী ঘোষণায় ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং বাংলাদেশ সহ মোট ১৪টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তবে ভারত এই শুল্কের আওতা থেকে বাদ পড়ায় নয়াদিল্লিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উল্লিখিত দেশগুলির মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্পের ‘স্বীকার করো নয়তো ছেড়ে দাও’ (Take it or Leave it) নীতিতে স্বাক্ষরিত এই ‘শুল্ক পত্র’ আলোচনার গতি বাড়াতে এবং শুল্ক ব্যবস্থাকে দ্রুত কার্যকর করতে বাধ্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যে দেশগুলোর ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার, লাওস, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া, কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ড। এই ১৪টি দেশের পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক গুনতে হবে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই শুল্ক হারগুলি বাণিজ্য ঘাটতি সম্পূর্ণরূপে দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় হারের তুলনায় অনেক কম।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি এই দেশগুলো ন্যায্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যে সম্মত হয়, তবে আমেরিকা তাদের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
ভারতের জন্য ‘খুশির খবর’
এই কঠোর বাণিজ্য নীতির মধ্যেও ভারতের জন্য সুসংবাদ বয়ে এনেছেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত ভারতের ওপর কোনো শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেননি তিনি। বরং, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে শীঘ্রই একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ব্রিটেন এবং চীনের সাথেও একটি চুক্তি করেছি।”
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তাদের বাণিজ্য নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব এখন দেখার বিষয়। তবে, ভারতের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।