ব্রেন্ট তেলের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ৩-৪ ডলার ছাড়ে রুশ তেল কিনছে ভারত। এই বিরাট ছাড় ভারতীয় তেল শোধনাগার সংস্থাগুলোর জন্য একটি বিশাল সুযোগ এনেছে। কিন্তু এই সুযোগের সঙ্গে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ। সম্প্রতি ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করেছেন এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য ভারতকে চাপ দিচ্ছেন।
চাপের মুখেও ভারতের অটল অবস্থান
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫% ‘reciprocal’ শুল্ক আরোপ করেন। এরপরেই রুশ তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক চাপিয়ে মোট শুল্কের পরিমাণ ৫০% করে দেন, যা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন সংকট তৈরি করে।
কিন্তু এই চাপের মুখেও ভারত পিছপা হয়নি। বরং, ভারতীয় তেল শোধনাগার সংস্থাগুলো ২৭ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১.৪ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনেছে। কেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, ভারত এই মাসেও আগের তুলনায় ১০-২০% বেশি, অর্থাৎ প্রতিদিন ১.৫ থেকে ৩ লাখ ব্যারেল রুশ তেল কেনার পরিকল্পনা করছে।
কেন রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ভারত?
ভারতের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যয় সাশ্রয়। ২০২২ সাল থেকে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৫-৪০% রাশিয়া থেকে আসছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিকল্প উৎস ব্যবহার করে ভারত এখন পর্যন্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সাশ্রয় করেছে। এই বিপুল পরিমাণ সাশ্রয় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমেরিকার অভিযোগ ও ভারতের শক্ত অবস্থান
ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতকে ‘ক্রেমলিনের লন্ড্রোম্যাট’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে রুশ তেল পরিশোধনের পর ভারত সেই তেল ইউরোপ ও এশিয়ায় রপ্তানি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।
তবে, ভারত সরকার এই অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্বব্যাপী মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তাদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত কোনো আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিফলন।
সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ‘বিশেষ’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব।