সোমবার রাতে বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যে এক অভাবনীয় মোড় এল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় জানালেন, ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক দীর্ঘ টেলিফোন কথোপকথনের পর ট্রাম্প নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খুশির খবরটি শেয়ার করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হলো।
রাশিয়ার তেলের পরিবর্তে মার্কিন বন্ধুত্ব: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন। এর পরিবর্তে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভাব্য ভেনেজুয়েলা থেকে অনেক বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল আমদানি করবে। ট্রাম্পের দাবি, ভারতের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে বড় ভূমিকা নেবে, কারণ রাশিয়ার আয়ের একটি বড় অংশ তেল রফতানি থেকে আসে। ট্রাম্প মোদিকে তাঁর “অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা দুজনেই কাজ করে ফল দেখাতে ভালোবাসি।”
৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল লক্ষ্য: এই চুক্তির আওতায় ভারত কেবল মার্কিন শুল্ক ছাড়ই পাচ্ছে না, বরং ‘বাই আমেরিকান’ (BUY AMERICAN) নীতির অধীনে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য এবং কয়লা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর বদলে ভারতও মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বাধাগুলো সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। ভারতের নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গর জানিয়েছেন, এই ১৮ শতাংশ শুল্ক প্রতিবেশী চীন বা পাকিস্তানের চেয়েও অনেক কম, যা ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য বিশ্ববাজারে এক বিশাল সুবিধা এনে দেবে।
মোদি ও দেশের প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ লেগেছে। ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি।” ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাণিজ্যিক মহলের মতে, বস্ত্র, রত্ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভারতীয় সংস্থাগুলি এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।





