ট্রাফিক আইন ভাঙলেই সোজা বাতিল হবে লাইসেন্স! সরকারের নতুন নিয়মে মাথায় হাত পড়বে চালকদের!

রাস্তার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করতে এবার এক যুগান্তকারী ও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন ধরে ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে শুধুমাত্র নগদ জরিমানা বা ফাইন দিয়েই পার পেয়ে যেতেন চালকরা। কিন্তু এবার থেকে সেই নিয়মে আসছে বিরাট পরিবর্তন। বারবার একই ভুল করলে শুধু জরিমানা দিয়ে আর ড্রাইভিং লাইসেন্স বাঁচানো সম্ভব হবে না। সম্প্রতি SIAM-এর ৬৬তম সম্মেলনে এই নতুন ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে দেশের সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, চালকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন করে তুলতেই এই কঠোর নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
নতুন এই প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, চালকরা যতবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করবেন, ঠিক ততবার তাদের লাইসেন্সের বিপরীতে নেগেটিভ পয়েন্ট বা পয়েন্ট মার্কিং যোগ হতে থাকবে। এই নেগেটিভ কাউন্ট সিস্টেম এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট লিমিট বা সীমা অতিক্রম করলেই সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাসপেন্ড বা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হবে। মূলত যারা স্বভাবগতভাবেই ট্রাফিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখান এবং বারবার অপরাধের পুনরাবৃত্তি করেন, তাদের কড়া হাতে দমন করতেই এই নেগেটিভ মার্কিং পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এর ফলে সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর দিন এবার শেষ হতে চলেছে।
তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা কড়াকড়িই নয়, চালকদের উৎসাহিত করতে ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। যারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমস্ত ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালাবেন, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিয়ে আসছে সরকার। ভালো ড্রাইভিং রেকর্ডের সুবাদে এই চালকরা বিভিন্ন বিমা কোম্পানি থেকে আকর্ষণীয় ছাড় ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা লাভ করবেন। একই সঙ্গে, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে সরকার দেশজুড়ে ১৬০০-রও বেশি আধুনিক ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যেখান থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ চালক সফলভাবে পেশাদার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং, আগামী দিনে রাস্তায় নামার আগে ট্রাফিক আইন নিয়ে বিন্দুমাত্র অবহেলা করলে বড় খেসারত দিতে হতে পারে।