নেশাগ্রস্ত পাইলটের হাতেই মৃত্যুর মুখে ১৪৫ যাত্রী! ওড়িশার আকাশে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে মাঝআকাশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-র প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এক মর্মান্তিক সত্য সামনে এসেছে, যেখানে জানা গেছে যে বিমানের সহ-পাইলট নন, বরং খোদ পাইলট ইন কমান্ড (PIC) বা প্রধান পাইলট নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিমান চালাচ্ছিলেন। এমনকি পরবর্তী ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাঁর রক্তে মাদক বা গাঁজা (Marijuana) সেবনের প্রমাণ মিলেছে, যা নিয়ে গোটা দেশের বিমান চালনা ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল যখন ফুকেত থেকে ১৩৭ জন যাত্রী (যার মধ্যে ৩ জন শিশু) এবং ৮ জন ক্রু সদস্যসহ মোট ১৪৫ জন আরোহীকে নিয়ে বিমানটি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। ওড়িশার আকাশসীমার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমানটি হঠাৎই মারাত্মক যান্ত্রিক গোলযোগের মুখে পড়ে। এয়ারবাস A320 বিমানটিতে থাকা তিনটি প্রধান হাইড্রোলিক সিস্টেম—গ্রিন, ব্লু এবং ইয়েলো—পরপর সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই সংকটময় মুহূর্তে যখন সহ-পাইলট বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন, তখন নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন খোদ নেশাগ্রস্ত প্রধান পাইলট। এর ঠিক পরেই বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে ডাইভ দেয় এবং প্রবল ঝাঁকুনিতে কেবিনের ছাদ ও ওভারহেড বিন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন বিমানকর্মী গুরুতর আহত হন।

প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ আবহাওয়া জনিত ঝাঁকুনি বা ‘টার্বুলেন্স’ মনে করা হলেও ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা দেখে পরবর্তীতে একে গুরুতর দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফ্লাইটটি নিরাপদে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর নিয়মমাফিক পোস্ট-ফ্লাইট ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকলেও, ‘সাইকো-অ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্স ডিটেকশন কিট’-এর মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করার সময় প্রধান পাইলট পজিটিভ প্রমাণিত হন। ল্যাবরেটরির চূড়ান্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয় যে তিনি গাঁজা সেবন করেছিলেন, যদিও সহ-পাইলটের রিপোর্ট সম্পূর্ণ নেগেটিভ ছিল। হাজার হাজার ফুট উঁচুতে শত শত যাত্রীর জীবন বিপন্ন করে পাইলটের এমন কাণ্ডকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে AAIB। অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ামক সংস্থা (DGCA)-কে অবিলম্বে দোষী পাইলটের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।