ট্যুরের কথা শুনলেই হাত-পা কাঁপছে? এটা সাধারণ টেনশন নাকি মারাত্মক রোগ ‘হোডোফোবিয়া’? চিনে নিন লক্ষণগুলি

বন্ধুদের মুখে দার্জিলিং বা গোয়ার প্ল্যান শোনার নামেই কি আপনার বুক ধড়ফড় করে ওঠে? ব্যাগ গোছানোর চিন্তা বাদ দিন, কেবল ‘ট্যুর’ বা ভ্রমণের কথা শুনলেই যাদের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়, তাঁদের জন্য বিষয়টি আর নিছক সাধারণ দুশ্চিন্তা বা নার্ভাসনেস থাকে না। মনোবিদদের মতে, ভ্রমণ নিয়ে মানুষের এই ভয় মূলত দুই রকমের হতে পারে—একটি সাধারণ Travel Anxiety (ভ্রমণজনিত দুশ্চিন্তা) এবং অন্যটি একটি মানসিক রোগ, যার নাম Hodophobia (হোডোফোবিয়া)। এই দুইয়ের তফাত পরিষ্কার না বুঝলে বড় বিপদে পড়তে হতে পারে।

Travel Anxiety বনাম Hodophobia: তফাত কোথায়?

  • Travel Anxiety (সাধারণ দুশ্চিন্তা): এটি প্রায় সবার মধ্যেই কমবেশি দেখা যায়। টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং, অচেনা খাবার কিংবা পকেটমার যাওয়ার মতো ছোটখাটো ‘যদি-কিন্তু’ নিয়ে এই দুশ্চিন্তা হয়। ট্যুরের ২-৩ দিন আগে একটু নার্ভাস লাগলেও, ট্রেনে চেপে বসলে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর এই ৮০% টেনশন হাওয়া হয়ে যায়। এখানে মানুষ মূলত ভ্রমণের ‘ঝামেলা বা প্রক্রিয়াটিকে’ ভয় পায়, ঘোরাটাকে নয়।

  • Hodophobia (হোডোফোবিয়া): এটি গ্রিক শব্দ ‘Hodos’ (যাত্রা) এবং ‘Phobos’ (ভয়) থেকে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত এই অ্যানজাইটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্তরা কেবল ট্যুর প্ল্যানিং নয়, বাড়ি থেকে বেরোনোর কথা ভাবলেই অসুস্থ বোধ করেন। পাড়ার মোড়ে যেতেও বুক ধড়ফড় করা, প্রচণ্ড ঘাম হওয়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো আতঙ্ক কাজ করে। এমনকি ট্যুরে গিয়েও বাড়ি ফেরার টেনশনে তাঁরা শান্তি পান না।

নিজেকে কীভাবে চিনবেন?

আপনার সমস্যাটি সাধারণ টেনশন নাকি ফোবিয়া, তা বুঝতে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করতে পারেন:

  1. ভয়টা কখন সবচেয়ে বেশি হয়? বড় ট্যুর প্ল্যান করলে Travel Anxiety, আর কেবল ভ্রমণের কথা ভাবলেই প্যানিক হলে তা Hodophobia।

  2. গন্তব্যে পৌঁছে কী অবস্থা হয়? এক ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে গেলে Anxiety, আর দুদিন পরেও মন খচখচ করলে তা ফোবিয়ার লক্ষণ।

  3. দূরত্বের সঙ্গে ভয়ের সম্পর্ক কেমন? ৫০ কিমি দূরে যাওয়ার নাম শুনলে ভয় পেলে Anxiety, আর ২ কিমি দূরে যাওয়ার কথাতেও প্যানিক হলে তা হোডোফোবিয়া হতে পারে।

মুক্তির উপায় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ Travel Anxiety কাটাতে ওভার-প্ল্যানিং বা অতিরিক্ত ভাবনা বন্ধ করতে হবে। প্রথমে ১ দিনের ছোট ও কাছের কোথাও ঘুরে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারেন। তবে সমস্যা যদি Hodophobia-র পর্যায়ে চলে যায়, তবে নিজে একা লড়াই না করে একজন ভালো সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া উচিত। সিবিটি থেরাপি (CBT) এবং এক্সপোজার থেরাপির মাধ্যমে এই ভয় পুরোপুরি কাটানো সম্ভব।

ভ্রমণের আগে সামান্য নার্ভাস হওয়া দোষের কিছু নয়, কিন্তু সেই ভয় যদি আপনার জীবনকে ঘরবন্দি করে দেয়, তবে সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া জরুরি। ভয়কে জয় করে নতুন অভিজ্ঞতাকে আপন করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।