টেস্টে আরও ৩০-৪০টি উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ছিল শামির! আচমকা অবসরের ঘোষণায় বিস্ফোরক মন্তব্য শাস্ত্রীর

ভারতের তারকা পেসার মহম্মদ শামি লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ঘোষণা করেছেন। গত ৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিজের সরে দাঁড়ানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তিনি। শামির এই হঠাৎ অবসরের সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ ও ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট মত, টেস্ট ক্রিকেটে দেশের হয়ে দেওয়ার মতো আরও অনেক কিছু বাকি ছিল এই অভিজ্ঞ পেসারের। একই সঙ্গে কেরিয়ারের শেষ লগ্নে টেস্ট দলে আরও একটা সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপও লুকোননি শাস্ত্রী।

টেস্ট কেরিয়ার ও শেষ ম্যাচ ২০১৩ সালের ঠিক ১৩ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটকে আলবিদা জানালেন শামি। ভারতের হয়ে টেস্ট ফরম্যাটে ৬৪টি ম্যাচ খেলে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২২৯টি উইকেট। তবে দেশের হয়ে তাঁর শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলেছিলেন দীর্ঘ সময় আগে— ২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে রবি শাস্ত্রী বলেন, তিনি আশা করেছিলেন শামি তাঁর টেস্ট উইকেটের তালিকায় আরও অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি উইকেট যোগ করতে পারতেন। শাস্ত্রীর কথায়, “দেশের হয়ে এত দুর্দান্ত পারফর্ম করা একজন খেলোয়াড়কে যখন এভাবে সরে দাঁড়াতে হয়, তখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে। আমি নিশ্চিত যে ওর মধ্যে আরও ৩০-৪০টি উইকেট নেওয়ার মতো যথেষ্ট সামর্থ্য ছিল। গত এক বছরে টেস্ট বোলার হিসেবেই ওর দলে খেলা উচিত ছিল।”

ফিটনেস সমস্যা ও নির্বাচকদের অবস্থান ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই চোট-আঘাতের কারণে শামির কেরিয়ারে বড় ধাক্কা আসে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী সময়ে হাঁটুর চোটের জেরে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ মিস করেন। যদিও ২০২৫ সালের জানুয়ারি নাগাদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামব্যাক করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমিত ওভারের সিরিজ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেন তিনি। তবে ২০২৫ সালের ইংল্যান্ড টেস্ট সফরের আগে তাঁকে ফের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

শামির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাস্ত্রী বলেন, “ম্যাচে ১০ বা ১২ ওভার বল করার মতো ফিট না থাকলে শুধু জিমে গিয়ে ফিট থাকার কোনো মানে হয় না।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর আগরকার দাবি করেছিলেন, শামির ফিটনেস নিয়ে বোর্ডের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তিনি পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি বলেই মত ছিল নির্বাচকদের। এর জবাবে বাংলার পেসার জোরালো কণ্ঠে বলেছিলেন, তিনি যদি বাংলার হয়ে চার দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার মতো ফিট থাকেন, তবে তাঁর পক্ষে অন্য ফরম্যাটেও খেলা সম্ভব। তবে সমস্ত জল্পনা ও দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বাংলার এই স্পিডস্টার।