দীপাবলির রাতে নরকীয় তাণ্ডব! পার্কিং নিয়ে সামান্য বচসার জেরে গুলিতে ঝাঁঝরা সিঙ্গাপুর প্রবাসী এমএনসি আধিকারিক

দীপাবলি উদযাপনের আনন্দ ও উৎসবের আবহের মাঝেই হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলা থেকে এক अत्यंत চাঞ্চল্যকর, মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। ধনতেরাসের পবিত্র রাতে ফরিদাবাদের সেক্টর ২১সি এলাকায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে সামান্য একটি তুচ্ছ বচসা হঠাৎই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। এক স্থানীয় দুষ্কৃতী তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল থেকে এলোপাথাড়ি ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি চালিয়ে এক উচ্চপদস্থ বহুজাতিক সংস্থার কর্মীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। নিহত এই ব্যক্তির নাম পরমজিৎ ধানকাড়। তিনি একটি স্বনামধন্য বহুজাতিক কোম্পানিতে উচ্চ পদে কর্মরত ছিলেন এবং কাজের সূত্রে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বসবাস করতেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে মাত্র দুদিন আগেই তিনি নিজের ভাগ্নের বিয়ের আনন্দানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে ফরিদাবাদের নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু কে জানত, এই ঘরের আনন্দই একদিন এমন মর্মান্তিক বিষাদে ঢেকে যাবে!
মূলত হরিয়ানার হিসারের বাসিন্দা পরমজিৎ ধানকাড় তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে নিয়ে সেক্টর ২১সি-র ৬৪১ নম্বর বাড়ির দোতলায় বসবাস করতেন। আগামী ২৪শে নভেম্বর তাঁর ভাগ্নের বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে বাড়িতে আনন্দের জোয়ার বইছিল। গত শুক্রবার রাত প্রায় আটটার সময় পরমজিৎ নিকটবর্তী জিম থেকে শরীরচর্চা সেরে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরেন। নিজের গাড়িটি পার্কিং করার সময় তাঁরই তিনতলার প্রতিবেশী মোহন ওরফে মনু শর্মার সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বিবাদ চরমে পৌঁছায় এবং অভিযুক্ত মনু শর্মা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলে। সে তার ঘরের ভেতর থেকে লাইসেন্স করা অস্ত্র বা পিস্তল বের করে সরাসরি পরমজিতের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মনু শর্মা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি চালায়। যার মধ্যে ৮ থেকে ৯টি বুলেট সরাসরি পরমজিতের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত হানে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পার্কিং ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই চাপা উত্তেজনা ও বিবাদ চলে আসছিল। এমনকি ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন আগেও অভিযুক্ত মনু জনসমক্ষে পরমজিতের ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিল। পরমজিৎকে পরপর গুলি করার পরপরই অভিযুক্ত মনু শর্মা তার গোটা পরিবারকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিপুল পরিমাণে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুরজকুন্ড থানা, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) দল এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের একাধিক চৌকস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির একাধিক খালি খোসা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। নিহতের মরদেহটি স্থানীয় প্রশাসন নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়না তদন্তের জন্য ইএসআই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সুরজকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পেহলাদ কুমার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। অপরাধীকে দ্রুত পাকড়াও করতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ দলগুলি বিভিন্ন সম্ভাব্য গোপন আস্তানায় লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।