পেট্রোলে ২০ শতাংশের জায়গায় ৩০ শতাংশ ইথানল! মোদী সরকারকে সরাসরি ‘চুরি’র অভিযোগে বিঁধলেন রাহুল গান্ধী

দেশের রাজনীতিতে ফের একবার শোরগোল ফেলে দিল ইথানল মেশানো পেট্রোল সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। কর্ণাটকের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত পেট্রোলের নমুনায় সরকারের নির্ধারিত ২০ শতাংশের (E20) বেশি ইথানল মেশানোর গুরুতর অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং দেশের প্রধান তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ার একটি জোরালো পোস্টে রাহুল দাবি করেছেন, একটি স্বীকৃত বা অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত ১৪টি নমুনার মধ্যে ১১টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তাতে নির্ধারিত আইনি সীমা ছাড়িয়ে বহু গুণ বেশি পরিমাণে ইথানল মেশানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল ব্লেন্ডিং নীতিকে তীব্র কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ই২০ এখন ৪২০-তে পরিণত হয়েছে! সরাসরি সাধারণ মানুষের গাড়ির পেট্রোল চুরি করা হচ্ছে!” তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি এবং বেসরকারি—উভয় খাতের তেল কোম্পানিগুলিই এই বেআইনি সীমা লঙ্ঘন করে চলেছে। পাশাপাশি, এই সমস্ত তেল সংস্থাগুলির নিজস্ব পরীক্ষাগারে বা ল্যাবরেটরিতে কেন এবং কীভাবে এই আসল তথ্য বছরের পর বছর ধরে গোপন করা হচ্ছিল, তা নিয়েও কড়া প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। রাহুলের পেশ করা ল্যাব রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর সংগ্রহ করা নমুনায় ইথানলের উপস্থিতি যথাক্রমে ৩১.২ শতাংশ এবং ৩০.৫ শতাংশ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL), নায়ার এনার্জি (Nayara Energy) এবং শেলের (Shell) মতো স্বনামধন্য বেসরকারি সংস্থার পেট্রোল পাম্প থেকেও নমুনা সংগ্রহ করে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই নমুনাগুলি কর্নাটকের সাতটি ভিন্ন জেলা—বেঙ্গালুরু, কোলার, চিক্কাবল্লাপুরা, বেঙ্গালুরু গ্রামীণ, রামানগরা, মাঙ্গালুরু এবং তুমাকুরু থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগৃহীত হয়েছিল। মূলত এই জেলাগুলি থেকে ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম, ভারত পেট্রলিয়াম, নায়ারা ও শেলের মতো সংস্থার মোট ৬৩টি পেট্রলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রথমে সেই নমুনাগুলি সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থাগুলির নিজস্ব পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং প্রতিটি নমুনায় ইথানলের সঠিক পরিমাণ কত, তা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক ও স্পষ্ট উত্তর না মেলায় সন্দেহ তীব্র হয়। এরপরই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নমুনাগুলি বেঙ্গালুরুর সুপরিচিত শ্রীরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি পর্ষদের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই স্বনামধন্য সংস্থার পরীক্ষাতেই অবশেষে ধরা পড়ে নির্ধারিত ২০ শতাংশ মাত্রার অতিরিক্ত ইথানলের উপস্থিতি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, “দেশের সাধারণ মানুষের গাড়ির ট্যাঙ্কে আসলে কী ভরা হচ্ছে? নির্ধারিত সীমার বাইরে এভাবে অতিরিক্ত ইথানল মেশানোর সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে কবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর প্রধানমন্ত্রীজির সঙ্গে যে বিতর্কের খোলা চ্যালেঞ্জ আমি এর আগে দিয়েছিলাম, তা এখনও বহাল রয়েছে—সেখানে এবার এই প্রশ্নটিও অবধারিতভাবে যোগ হবে যে, এই ভ্রান্ত নীতি থেকে আদতে লাভবান হচ্ছে কারা?”
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর কেন্দ্রের কাছে একটি বিশেষ ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন কর্নাটকের খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী রিজওয়ান আরশাদ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, অতিরিক্ত ইথানল মেশানোর ফলে যদি সাধারণ মানুষের গাড়ির মাইলেজ কমে যায় এবং ইঞ্জিন মেরামতির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে তার সমস্ত আর্থিক দায়ভার কোনোভাবেই গ্রাহকদের উপর চাপানো যায় না। তেল সংস্থাগুলিকেই এর সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।