‘কেউ মরেনি, জখমও হয়নি!’ ইরান অভিযান নিয়ে সাফাই ট্রাম্পের, নেপথ্যে কি তবে বড় কোনো সমীকরণ?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিড টার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষ সাফাই গাইলেও, এবার হোয়াইট হাউসের তরফে দাবি করা হলো— ইরান নিয়ে ওয়াশিংটনের বর্তমান পদক্ষেপকে কোনোভাবেই ‘যুদ্ধ’ বলা চলে না। শুধু তাই নয়, দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা অনেকটাই ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে বলেও বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

‘এটা যুদ্ধ নয়, কেউ তো জখম হয়নি!’ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা অত্যন্ত ভালো দিকে এগোচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যুদ্ধের আগে আমরা যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করতাম, এখন তার চেয়ে বেশি করি।”

এর ঠিক পরেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “এটা তো যুদ্ধ নয়। গত পাঁচ মাস ধরে যেখানে একজনও জখম হননি বা মারা যাননি, তাকে মোটেই যুদ্ধ বলা যায় না। এটা যুদ্ধ নয়।”

হারের পরেই নেতার বয়ানে বদল? রাজনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই সুর নরম করার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক মিড টার্ম নির্বাচনের ফলাফল। ঘটনাচক্রে, আমেরিকার সদ্য সমাপ্ত মিড টার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পর্যুদস্ত হওয়ার ঠিক পরেই ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন যে, এই হারের অন্যতম বড় কারণ ‘ইরান যুদ্ধ’! যদিও সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই এবং প্রয়োজনে তিনি ফের একই পদক্ষেপ করবেন।

তবে অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দলের বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা সরাসরি এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও সুদূরপ্রসারী ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দলের অন্দরে তৈরি হওয়া সেই অস্বস্তি ও রাজনৈতিক চাপ সামলাতেই কি এবার ট্রাম্প তাঁর অবস্থান থেকে সরে এসে একে ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ? আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা এখন সেই সমীকরণেই নজর রাখছেন।