২০২৬-এর ‘ইন্ডিয়া AI ইমপ্যাক্ট সামিট’ (AI Impact Summit) মঞ্চে কার্যত বোমা ফাটাল বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফট (Microsoft)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বিশ্বব্যাপী দৌড়ে ভারতকে তুরুপের তাস করতে ৫০ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগের মেগা ঘোষণা করল সত্য নাদেল্লার সংস্থা। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিপুল অর্থ ভারতের মতো ‘গ্লোবাল সাউথ’ দেশগুলোর প্রযুক্তিগত ভোলবদল করতে ব্যয় করা হবে।
কেন ভারতকে বেছে নিল মাইক্রোসফট?
সামিটে সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ (Brad Smith) স্পষ্ট জানান, বর্তমানে এআই-এর সুবিধা বিশ্বের সব প্রান্তে সমানভাবে পৌঁছচ্ছে না। তাঁর মতে:
-
ভবিষ্যতের কেন্দ্র: ভারত শুধু একটি বিশাল বাজার নয়, এটি আগামীর এআই উদ্ভাবনের (Innovation Hub) আসল কেন্দ্র।
-
মূল লক্ষ্য: অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার তৈরি, ক্লাউড পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক-ছাত্রদের জন্য বিশেষ স্থানীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
-
প্রয়োগ: কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জনসেবায় সরাসরি এআই-এর ব্যবহার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা।
পিছিয়ে নেই গুগলও: সুন্দর পিচাইয়ের পাল্টা চাল
মাইক্রোসফট যখন ৪ লক্ষ কোটির লক্ষ্যমাত্রা নিচ্ছে, তখন চুপ করে বসে নেই প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলও (Google)। সংস্থার সিইও সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে গুগল। এই বিনিয়োগের সিংহভাগ খরচ হবে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে, যার সুফল পাবে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলিও।
বিশেষজ্ঞের রায়: ভারতের বিশাল জনসংখ্যা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল ডেটা বিশ্ব প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কাছে সোনার খনি। এই বিপুল বিনিয়োগ ভারতের অর্থনীতিকে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে দিতে পারে।
সাধারণ মানুষের কী লাভ?
এই লগ্নির ফলে শুধু বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাই নয়, উপকৃত হবে ভারতের স্টার্টআপ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খোলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও কৃষিক্ষেত্রে এআই-এর ছোঁয়ায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।