আবারও ভারতীয় দলে ফিরতে পারেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, তবে এবার ক্রিকেটার হিসেবে নয়, মেন্টর হিসেবে। আগামী টি২০ বিশ্বকাপে ধোনিকে এই ভূমিকায় চাইছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। তবে কোচ গৌতম গম্ভীর থাকতে ধোনি এই দায়িত্ব নেবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একইসঙ্গে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার পরও বোর্ডের এমন পরিকল্পনা গম্ভীরের ওপর তাদের আস্থার অভাবের দিকে ইঙ্গিত করছে বলেও অনেকে মনে করছেন।
ধোনির প্রতি বোর্ডের আস্থা
২০০৭ সালে ধোনির নেতৃত্বেই প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। সেই কৌশল এবং অভিজ্ঞতার ওপর বোর্ডের এখনো অগাধ বিশ্বাস। তাই এবারও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে তারা। বোর্ডের আশা, ড্রেসিংরুমে ধোনির উপস্থিতি দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে তুলবে। এর আগে ২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপেও ধোনিকে মেন্টরের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল, যদিও সেইবার ভারত সফল হয়নি।
গম্ভীর কি ধোনির অধীনে কাজ করবেন?
এবার পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। নির্বাচকরা বলছেন, তারা খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং কাজের চাপ মাথায় রেখে দল তৈরি করেছেন। এর সঙ্গে ধোনির মতো একজন বড় নাম যোগ হলে দলের শক্তি আরও বাড়বে। কিন্তু এখানে মূল সমস্যা কোচ গৌতম গম্ভীর।
যদিও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেননি, তবে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই ধোনি এবং গম্ভীরের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই চলছে। গম্ভীর অনেকবার বলেছেন যে, ফাইনাল ম্যাচে তার ৯৭ রানের ইনিংসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে শুধু ধোনির ‘উইনিং হেলিকপ্টার শট’ দেখিয়ে। গম্ভীরের মতে, ভারতে ‘ব্যক্তিপূজা’র সংস্কৃতি অনেক বেশি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোচ হওয়ার পর গম্ভীর সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। ম্যাচ জেতার পর তিনি কোনো খেলোয়াড়কে এককভাবে কৃতিত্ব দেন না, সবসময় দলকে নিয়ে কথা বলেন। কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি তা এড়িয়ে যান। এখন প্রশ্ন হলো, গম্ভীর কি বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন? তিনি কি তার ওপর ধোনিকে আবারও মেন্টর হিসেবে মেনে নেবেন, নাকি বোর্ডের কাছে প্রতিবাদ করবেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে আমাদের আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।