ভারতীয় রেল কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কোটি কোটি মানুষের ভরসা। বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে রেলওয়ে আইন ও পরিষেবায় এমন কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে, যা সম্পর্কে অধিকাংশ মহিলাই অবগত নন। আপনি একা ভ্রমণ করুন বা পরিবারের সঙ্গে— এই অধিকারগুলো আপনার সফরকে করতে পারে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত।
১. টিকিট না থাকলেও মাঝরাতে নামানো নিষেধ
ভারতীয় রেল আইন (১৯৮৯)-এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো মহিলা বা নাবালক যদি টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করেন, তবে তাঁদের গভীর রাতে কোনো স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া যাবে না।
জরিমানা দিতে অসমর্থ হলেও তাঁদের পরবর্তী জেলা সদর স্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।
যদি রেল পুলিশ (RPF/GRP) তাঁদের নামিয়ে দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট মহিলার সম্পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে।
২. বার্থ ও সিট সংরক্ষণে বিশেষ অগ্রাধিকার
মহিলাদের জন্য প্রতিটি ট্রেনে আলাদা কোচ থাকার পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ কোটা:
লোয়ার বার্থ: ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলা, গর্ভবতী বা বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য স্লিপার, 3AC এবং 2AC কোচে নিচের বার্থ সংরক্ষিত থাকে।
লেডিস কোটা: স্লিপার ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে ৬-১২টি আসন নির্দিষ্ট থাকে।
৩. ‘মেরি সহেলি’ ও নিরাপত্তা উদ্যোগ
একা ভ্রমণকারী মহিলাদের জন্য রেল চালু করেছে ‘মেরি সহেলি’ প্রকল্প। এর অধীনে মহিলা নিরাপত্তা কর্মীরা যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হয়। যেকোনো বিপদে বা অস্বস্তিতে ২৪x৭ হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ কল করে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।
৪. আসন পরিবর্তনের বিশেষ অধিকার
ট্রেনে ভ্রমণকালীন কোনো সহযাত্রীর আচরণে বা নিজের আসনে অস্বস্তি বোধ করলে, মহিলা যাত্রীরা সরাসরি টিটিই (TTE)-র কাছে আসন পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। একা ভ্রমণকারী মহিলাদের সুরক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।
৫. পৃথক লাউঞ্জ ও টিকিট কাউন্টার
ভিড় এড়াতে স্টেশনগুলোতে মহিলাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার এবং ট্রেনের অপেক্ষা করার জন্য বিশেষ ওয়েটিং লাউঞ্জ থাকে। এখানে পুরুষদের প্রবেশাধিকার না থাকায় মহিলারা নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে পারেন।
প্রয়োজনীয় তথ্য: আগে ৫৮ বছরের ঊর্ধ্বের মহিলারা ভাড়ায় ৫০% পর্যন্ত ছাড় পেতেন। যদিও বর্তমানে কিছু নিয়মে বদল এসেছে, তবুও বিশেষ পরিস্থিতিতে অসুস্থ বা গর্ভবতী মহিলারা কনসেশনে টিকিটের সুবিধা পেতে পারেন।





