ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বজয়ের পর সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। দুর্গাাপুরের একটি ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মহিলারা রাত আটটার পর ঘর থেকে না-বেরোলে তাঁরা চ্যাম্পিয়ন হবেন কীভাবে?
🌃 বিশ্বকাপ জয় নিয়ে কটাক্ষ
রবিবার রাতে নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে মহিলাদের বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে রাত ১২টার পর। এই প্রসঙ্গে সোমবার মালদায় বিজেপির দলীয় কার্যক্রমে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মিঠুন চক্রবর্তী।
তিনি বলেন:
“ভারতীয় মহিলা টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটা আমাদের কাছে বিরাট গর্বের বিষয়। তবে মহিলাদের তো রাত আটটার পর বেরোতে মানা করেছেন। মেয়েরা যদি রাত আটটার পর ঘর থেকে না-বেরোন, তবে তাঁরা চ্যাম্পিয়ন হবেন কীভাবে?”
মিঠুন চক্রবর্তী আরও যোগ করেন, “বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে, মহিলারা যখন ইচ্ছে রাতে বেরোবেন, সিনেমা দেখবেন আর চোর দুষ্কৃতীরা ভেতরে থাকবে।”
এই কটাক্ষটি মূলত দুর্গাপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী গভীর রাতে মেয়েটি জঙ্গল এলাকায় কীভাবে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
🛠️ দলীয় কর্মীদের জন্য ‘মিঠুন যোদ্ধা’ ও ক্যুইক রেসপন্স টিম
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে মিঠুন চক্রবর্তী এদিন নতুন এক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ‘মিঠুন যোদ্ধা’ নামে একটি বিশেষ ব্রিগেড তৈরি করার কথা জানান।
ব্রিগেড: প্রতি বিধানসভা এলাকায় ১৫০ জন করে মিঠুন যোদ্ধা তৈরি করা হবে, যাঁরা দলীয় কর্মীদের সমস্তরকম সাহায্য করবেন।
ক্যুইক রেসপন্স টিম (QRT): শাসকদলের নির্যাতন থেকে মুক্তি দিতে কর্মীদের সহায়তার জন্য একটি ক্যুইক রেসপন্স টিম তৈরি করা হবে। কর্মীদের সুবিধার জন্য ওই টিমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি স্পেশাল মোবাইল নম্বরও দিয়েছেন মহাগুরু।
আইনি সহায়তা: এছাড়া কর্মীদের আইনি পরিষেবা দিতে লিগাল সেলের নম্বরও দিয়েছেন তিনি।
🗣️ এসআইআর ও তৃণমূলকে আক্রমণ
এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনী অভিযান নিয়েও মুখ খোলেন মিঠুন চক্রবর্তী।
এসআইআর নিয়ে মন্তব্য: তিনি বলেন, “এসআইআর-এর প্রতিবাদে মিছিল করা মানে অভারতীয়দের জন্য মিছিল করা। আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভারতীয়দের পাশে রয়েছি।”
টিএমসি-কে আক্রমণ: মিঠুন তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, “বর্তমানে টিএমসি-র পুরো মানে হয়ে গিয়েছে টেরর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি। এই সরকার আদিবাসীদেরও ছাড়ছে না।”
তাঁর বক্তব্য, শাসকদল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করবে, বিজেপির কর্মীরাও যেন তেমনই ব্যবহার করেন।