টার্গেট প্র্যাকটিসের শিকার ফিলিস্তিনি শিশুরা! রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য

গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান সংঘর্ষ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের একটি স্বাধীন তদন্তকারী দলের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী ফিলস্তিনি শিশুদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাদের ‘টার্গেট প্র্যাকটিস’-এর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। গত ২০ মাসে প্রায় ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৪ হাজারের বেশি শিশু আহত হয়েছে।
তদন্তকারী দলের মতে, এটি কেবল যুদ্ধের সাধারণ ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল। হাসপাতালে এবং ত্রাণ শিবিরে শিশুদের মাথা ও বুকে স্নাইপার হামলার প্রমাণ মিলেছে, যা এই সন্দেহকে জোরালো করেছে যে শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় গড়ে একজন ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া, পশ্চিম তীরে শিশুদের আটক, শারীরিক নির্যাতন এবং তাদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগও রিপোর্টে উঠে এসেছে।
যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তেল আভিভের দাবি, তারা কেবল হামাসের বিরুদ্ধে লড়ছে এবং হামাস বেসামরিক এলাকাকে তাদের সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তবে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবি উঠেছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এখনই এই সংঘাত বন্ধ না হলে ফিলিস্তিনের একটি পুরো প্রজন্ম শারীরিক ও মানসিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। আধুনিক যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট এখন গোটা বিশ্বের বিবেকের কাছে বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।