টানা ৫ দিন বন্ধ থাকছে দেশের সমস্ত ব্যাঙ্ক! চরম বিপদের আগেই জরুরি কাজ মেটানোর দিনক্ষণ জেনে নিন

অর্থ সংক্রান্ত জরুরি কোনো কাজ থাকলে এখনই সেরে রাখুন, তা না হলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। সপ্তাহের শুরুতেই বিশাল আর্থিক বিপদে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের (UFBU) ডাকে এবার টানা তিনদিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর সঙ্গে সপ্তাহের ছুটির দিন যুক্ত হওয়ায় টানা ৫ দিন দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক পুরোপুরি বন্ধ থাকতে চলেছে।

আর্থিক পরিষেবা সচল রাখতে এবং ধর্মঘটের জেরে দেশজুড়ে যেন বড় বিপর্যয় না ঘটে, সে কারণে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) একটি উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডেকেছে। বৈঠকে দেশীয় সমস্ত পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রধান, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA) এবং নাবার্ডের (NABARD) শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

কেন এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট?

ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের দাবি, সপ্তাহের পুরো ৬ দিনের বদলে ৫ দিন কর্মদিবস (5-day work week) চালু করতে হবে এবং প্রতি শনিবার ও রবিবার পূর্ণাঙ্গ ছুটি দিতে হবে। ইউএফবিইউ-এর অভিযোগ, কেন্দ্র বারবার আশ্বাস দিলেও তাঁদের এই যুক্তিসঙ্গত দাবি এখনও পূরণ করেনি। এর প্রতিবাদেই গত ১১ সেপ্টেম্বর একদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট পালিত হয়েছিল। দাবি আদায় না হওয়ায় এবার দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের পথে হাঁটছেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।

ঠিক কোন কোন দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক?

ইউনিয়নের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা ব্যাঙ্ক ধর্মঘট পালিত হবে। তবে ধর্মঘটের আগের দু’দিন—অর্থাৎ ২৬ সেপ্টেম্বর (চতুর্থ শনিবার) এবং ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) হওয়ার কারণে ব্যাঙ্ক আগেই বন্ধ থাকবে। ফলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর—এই টানা ৫ দিন দেশের কোনো ব্যাঙ্কের শাখা খোলা পাওয়া যাবে না।

গ্রাহকদের জন্য রইল স্বস্তির খবর

টানা ৫ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলেও সাধারণ গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে এটিএম (ATM) পরিষেবা পুরোপুরি চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, মোবাইল ব্যাঙ্কিং ও ইউপিআই (UPI) পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করবে। তাই শাখা ব্যাঙ্কিং নির্ভর যেকোনো চেকের কাজ, নগদ টাকা জমা বা তোলা সংক্রান্ত প্রয়োজন থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।