পদ্মার ইলিশ এখন অতীত! এবার ভারতের বাজার কাঁপাচ্ছে মোদীর রাজ্যের ইলিশ, কী এমন গুণ এতে?

ভোজনরসিক বাঙালির কাছে পদ্মার রূপালী ইলিশের কদর বরাবরই আলাদা। তার অমূল্য স্বাদ আর সুবাসের টানে মাছের বাজারে দাম যাই হোক না কেন, পকেটের তোয়াক্কা না করেই বাঙালি হাত বাড়ায় বাংলাদেশে উৎপাদিত ইলিশের দিকে। তবে দিন বদলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মার ইলিশ হোক কিংবা দীঘা-ডায়মন্ড হারবারের স্থানীয় ইলিশ, দুটোই এখন মধ্যবিত্তের নাগালে পাওয়া যেন ডুমুরের ফুল। আর এই সুযোগেই বাংলার বাজার পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে গুজরাটের ভারুচ উপকূলের বিশেষ ইলিশ!

বিবিসি বাংলার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাটের ভারোচ অঞ্চল থেকে এখন দেদার আসছে ইলিশ। যেখানে নর্মদা নদী গিয়ে মিলেছে আরব সাগরে, সেই মোহনা থেকেই প্রচুর পরিমাণে এই মাছ ধরা হচ্ছে। খবর অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারোচে ইলিশের ফলন রেকর্ড হারে বেড়েছে। ফলে প্রচুর জোগান থাকায় বাজারের স্বাভাবিক নিয়মেই কম দামে বিক্রি করতে পারছেন মৎস্যজীবীরা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো ভারতেই এখন রমরমিয়ে বিকোচ্ছে এই গুজরাটি ইলিশ। কেবল ভারুচ জেলাতেই ইলিশকে ঘিরে ব্যবসা ছুঁয়েছে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার মাইলফলক!

হাওড়া পাইকারি বাজারে লরি লরি মাছের ঢল

বাংলার স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা স্পষ্টই জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে ইলিশের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশ কম। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাজারে যোগানে এতটুকু ঘাটতি নেই। কেন? উত্তর একটাই—গুজরাটের ভারোচ।

এক বিশিষ্ট পাইকারি মৎস্য ব্যবসায়ীর কথায়, “সব মাছই এখন ভারুচ থেকে আসছে, তা-ও বিপুল পরিমাণে। দিনে গড়ে ১০ থেকে ১২ টনের প্রায় ২০ থেকে ৩০ ট্রাক বোঝাই মাছ একাই হাওড়া পাইকারি বাজারে এসে খালি হচ্ছে।”

এপার বাংলা হয়ে বাংলাদেশেও রপ্তানি!

বিষয়টি শুধু পশ্চিমবঙ্গের বাজার দখলেই আটকে নেই। সীমান্ত পেরিয়ে এই গুজরাটি ইলিশ এবার ঢুকছে খোদ বাংলাদেশেও! রিপোর্টের দাবি, বাংলাদেশেও বিগত কয়েক বছরে ইলিশের উৎপাদন খানিকটা হ্রাস পেয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বিশাল চাহিদা মেটাতে পারছে না পদ্মা-মেঘনার মাছ।

আর ঠিক সেখানেই জায়গা করে নিয়েছে ভারোচের এই মাছ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পথ ধরে প্রতিদিন টন টন গুজরাটি ইলিশ পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশের বাজারে।

কেমন এই গুজরাটি ইলিশের স্বাদ?

স্বাদের দিক থেকে দেখতে গেলে বাঙালি কিন্তু পদ্মা বা রূপনারায়ণের ইলিশকেই শতভাগ নম্বর দেবে। ব্যবসায়ীরা অকপটে স্বীকার করছেন, পদ্মা বা স্থানীয় ইলিশের তুলনায় গুজরাটি ইলিশের স্বাদ কিছুটা কম।

তবে এর পেছনে বড় একটি চমকপ্রদ কারণও রয়েছে। এই মাছে ডিমের পরিমাণ থাকে প্রচুর। আর ডিমে ভরা ইলিশের বড়সড় চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশে। সেখানে পৌঁছানোর পর মাছের পেট থেকে ডিম বের করে আলাদাভাবে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হয়, আর মূল মাছটিকে নোনা মাছ বা শুঁটকি বানিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ফলে স্বাদে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও ব্যবসায়িক চাহিদায় এখন একচ্ছত্র রাজত্ব করছে গুজরাটের এই ইলিশ।