বিদেশে বসেই মিলবে আধারের সুবিধা? এনআরআই ও ওসিআই কার্ডহোল্ডারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত UIDAI-এর

ভারতের ডিজিটাল পরিচিতির প্রধান হাতিয়ার ‘আধার’ এবার আন্তর্জাতিক স্তরে পা রাখতে চলেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের দরবারে আধারের পরিকাঠামোকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (UIDAI)। মূলত অনাবাসী ভারতীয় (NRI) এবং প্রবাসী ভারতীয় (OCI) কার্ডহোল্ডারদের জন্য আধার সংযোগ ও ব্যবহার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও মসৃণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সম্প্রতি আয়োজিত ‘গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৬’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে এই মেগা পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান ইউআইডিএআই-এর সিইও সৌরভ বিজয়।

আন্তর্জাতিকীকরণে জোর, বদলে যাবে আইনি পরিকাঠামো

গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে সংস্থার সিইও সৌরভ বিজয় জানান, আধারের বর্তমান লক্ষ্যই হলো এটিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। প্রবাসীরা যাতে যেকোনো স্থান থেকে দেশের বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের আধার সহজে যুক্ত করতে পারেন, তার জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ (PoC) নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আধারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দেশের আইনি পরিকাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে কেন্দ্র। এর ফলে প্রবাসীদের আধার পাওয়ার প্রক্রিয়া সুগম হবে এবং পরবর্তীতে ভারতে বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

বর্তমানে এনআরআই ও ওসিআই-দের আধার পাওয়ার নিয়ম কী?

বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য আধারের আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম বলবৎ রয়েছে:

  • অনাবাসী ভারতীয় (NRI): বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে এনআরআই-দের আধার কার্ডের আবেদনের জন্য পূর্বে ধার্য থাকা ‘টানা ১৮২ দিন ভারতে বসবাস করার’ বাধ্যবাধকতা আর কার্যকর থাকে না। ভারতে আসার পর সরাসরি তাঁরা আবেদন করতে পারেন। তবে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে অনুমোদিত এনরোলমেন্ট সেন্টারে শারীরিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

  • প্রবাসী ভারতীয় (OCI): ওসিআই কার্ডহোল্ডারদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা কঠোর। বর্তমানে তাঁদের ‘রেসিডেন্ট ফরেন ন্যাশনাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে আবেদনের পূর্ববর্তী ১২ মাসের মধ্যে অন্তত ১৮২ দিন ভারতে অবস্থান করা আবশ্যক। পাশাপাশি বিদেশি পাসপোর্ট, ওসিআই কার্ড ও ভারতীয় ঠিকানার প্রমাণপত্র সহ এনরোলমেন্ট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়।

ইউআইডিএআই সূত্রে খবর, নতুন আন্তর্জাতিক রূপরেখা প্রস্তুত হলে বিশেষ করে ওসিআই কার্ডহোল্ডারদের জন্য এই জটিল নিয়মাবলীতে বড় ধরনের শিথিলতা আসতে পারে।

আধার প্রতারণা ও জালিয়াতি রুখতে এআই-এর ঢাল

আন্তর্জাতিক স্তরে আধার প্রসারের পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারেও কোনো আপস করছে না কমিশন। আধার সংক্রান্ত যেকোনো জালিয়াতি ও প্রতারণা রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে।

ইউআইডিএআই-এর চেয়ারম্যান নীলকান্ত মিশ্র নিশ্চিত করেছেন যে, সাইবার দুষ্কৃতীরা প্রতারণার নতুন নতুন পথ খুঁজলেও, প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেই তাদের প্রতিহত করা হচ্ছে। তিনি জানান, বহু আগে থেকেই মুখমণ্ডল ও আঙুলের ছাপ (Biometric) নিখুঁতভাবে যাচাই করার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে আধার এনরোলমেন্ট বা যাচাইয়ের সময় বায়োমেট্রিক দানকারী আসল ব্যক্তিটি স্বশরীরে উপস্থিত আছেন কি না, তা ডিজিটাল ফিল্টারের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।