দীর্ঘ ১২ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবার এক নজিরবিহীন পরাজয়ের মুখোমুখি হলো নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভায় ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হলো শাসক দল। আর এই জয় কার্যত অক্সিজেন জোগাল বিরোধী শিবিরের পালে। জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার রাতে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন রাহুল গান্ধী।
দিল্লির রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়:
তৃণমূল কংগ্রেসের এককাট্টা অবস্থানের কারণেই কার্যত আটকে যায় বিজেপির এই গুরুত্বপূর্ণ বিল। তৃণমূলের এই ভূমিকাকে কুর্নিশ জানাতে অভিষেককে রাহুল গান্ধী ফোন করলে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। শুধু রাহুল নন, মল্লিকার্জুন খাড়গে কথা বলেন ডেরেক ও’ব্রায়েনের সাথে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ধন্যবাদ জানান অখিলেশ যাদবও। অভিষেক ফোনে রাহুলকে স্পষ্ট জানান, “জাতীয় রাজনীতিতে হাওয়া এখন বিজেপির বিরুদ্ধে ঘুরছে।”
বিজেপির কটাক্ষ:
তৃণমূল-কংগ্রেসের এই ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের টিপ্পনি— “দিল্লিতে রাহুল আর অভিষেক একে অপরকে ফোন করছেন, অথচ বাংলায় এসে রাহুলই আবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। এটা স্রেফ নাটক ছাড়া কিছুই নয়।” উল্লেখ্য, মাত্র দু’দিন আগেই বাংলায় প্রচারে এসে সারদা থেকে আরজি কর ইস্যুতে মমতা সরকারকে বিঁধেছিলেন রাহুল। এই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়েই এখন সরব বিজেপি।
অভিষেকের হুঙ্কার:
সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “বিজেপির অস্বস্তি এখন প্রকাশ্য। এনডিএ সরকার স্রেফ ‘ধার করা সময়ে’ চলছে। তাদের নিয়ন্ত্রণের ভ্রম এখন সবার চোখের সামনে ভেঙে চুরমার হতে শুরু করেছে।” ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দিল্লির এই বিরোধী ঐক্য ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





