শনিবার মালদার সভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে আজ, রবিবার সেই লক্ষ্যেই বাংলার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমি সিঙ্গুরে পা রাখছেন তিনি। এককালে যে সিঙ্গুর ছিল পরিবর্তনের আঁতুড়ঘর, আজ সেই সিঙ্গুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া মেজাজে আক্রমণ শানাতে চলেছেন নমো। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মোদীর এই সিঙ্গুর সফর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে।
কখন ও কোথায় এই মেগা সভা? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টো ৫০ মিনিটে তিনি সিঙ্গুর হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। এরপর দুপুর ৩টে থেকে প্রায় আধ ঘণ্টা চলবে সরকারি কর্মসূচি। বিকেল ৩টে ৪৫ মিনিট থেকে ৪টে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সিঙ্গুরের মাটিতে জনসভা করবেন তিনি। জনসভা শেষে তাঁর কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, টাটা গোষ্ঠীর সেই পরিত্যক্ত ন্যানো কারখানার জমিতেই, অর্থাৎ সিংহরভেরি মৌজায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই তৈরি হয়েছে মোদীর সভামঞ্চ।
কেন সিঙ্গুরকে বাছলেন মোদী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গুর বাছাই বিজেপির এক সুচারু রাজনৈতিক চাল। বাম আমলের অবসানে সিঙ্গুর আন্দোলন ছিল তৃণমূলের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশকেও সিঙ্গুরের সেই জমিতে না হয়েছে শিল্প, না হচ্ছে চাষ। টাটারা রাজ্য ছাড়ার পর উর্বর জমি এখন কার্যত বন্ধ্যা ও পরিত্যক্ত। স্থানীয় কৃষকদের একাংশের মধ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। মোদী এই ক্ষোভকেই হাতিয়ার করতে চান।
শিল্প বনাম কৃষি: কী বার্তা দেবেন নমো? সিঙ্গুর থেকে টাটারা বিতাড়িত হওয়ার পর তারা গুজরাটে কারখানা স্থাপন করেছিল। কাকতালীয়ভাবে সেই গুজরাট মোদীর নিজের রাজ্য। ফলে আজ সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন শিল্পের অভাব নিয়ে সরব হবেন প্রধানমন্ত্রী, তেমনই কৃষি জমির দুরবস্থা নিয়েও মমতাকে বিঁধবেন তিনি। সিঙ্গুরের দগদগে স্মৃতিকে উসকে দিয়ে বাংলার শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো বড় ঘোষণা করেন কি না, এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিপুল উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।





