‘টাকা না দিলে খেলা হবে না!’ অডিও ভাইরাল হতেই ময়দানে চরম চাঞ্চল্য!

ক্লাব ক্রিকেটে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে বর্তমানে উত্তাল কলকাতার ময়দান। সিএবি অনুমোদিত দ্বিতীয় ডিভিশনের দল বাণী নিকেতনে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার শর্তে টাকার দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। লাল বলের ক্রিকেটে ম্যাচ পিছু ২০ হাজার এবং সাদা বলের ক্রিকেটে ১৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, একসঙ্গে একাধিক ম্যাচ খেলতে চাইলে প্যাকেজে বিশেষ ‘ডিসকাউন্ট’ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গেছে।

কী বলছেন অভিযোগকারী ক্রিকেটার?

বেহালার উদীয়মান ক্রিকেটার নীলাদ্রি বসু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এটি শুধু চলতি বছরের সমস্যা নয়, গত চার বছর ধরে তাঁকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টের সূত্র ধরে সোনু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। নীলাদ্রির অভিযোগ, তিনি কী ধরনের খেলাধুলা করেন (ব্যাটিং, বোলিং নাকি অলরাউন্ডার) তা না জেনেই সরাসরি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ও প্রশাসনের নজরে আনতেই তিনি পুরো কথোপকথন রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে এনেছেন।

কী সাফাই ক্লাবের কর্তার?

এদিকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাণী নিকেতনের সচিব দেবব্রত ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, ফোনে যাঁকে শোনা গিয়েছে, তাঁকে তিনি চেনেনই না। এর নেপথ্যে সিএবি-র আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক অঙ্ক থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ৮ বছরেরও বেশি বয়সি এই প্রবীণ কর্তার দাবি, তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই তাঁর এবং ক্লাবের নামে এই কুৎসা রটানো হচ্ছে।

কী বলছেন ভাইরাল হওয়া সেই ‘সোনু’?

ভিডিওতে যাঁর কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে, সেই দিবাকর কুমার সিংহ ওরফে সোনু জানিয়েছেন, তিনি আদতে কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নন, একটি জুয়েলারি দোকানে কাজ করেন। ময়দানে তাঁর যাতায়াত রয়েছে। তাঁর দাবি, ময়দানের অনেক ক্লাবই তাঁকে ক্রিকেটার খুঁজে দিতে বলে এবং বিনিময়ে কমিশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তাঁকে যা বলা হয়েছিল, তিনি সেটাই শুধু সামনে এনেছেন। এই ঘটনায় ময়দানের অন্দরের দুর্নীতির কদর্য ছবিটা আরও একবার প্রকাশ্যে চলে এল।