টলিপাড়ায় ধুন্ধুমার! বৈঠকের মাঝপথেই ওয়াকআউট পাপিয়া অধিকারীর, ফেডারেশন বিতর্ক ঘিরে চরম অসন্তোষ

বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং টেকনিশিয়ান ও ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে বুধবার বিকেলে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না অন্য এক তারকা বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সবথেকে বড় চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা চলাকালীনই মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে অসন্তুষ্ট হয়ে বেরিয়ে যান পাপিয়া অধিকারী। তাঁর এমন হঠাৎ ওয়াকআউট করার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই টলিপাড়ার অন্দরে চরম জল্পনা এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বৈঠকের অন্দরে আলোচনার পাশাপাশি বাইরেও তৈরি হয়েছিল তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে যে, এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে টেকনিশিয়ানদের একটি বড় অংশকে অংশগ্রহণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর এর ফলেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বাইরে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এই প্রসঙ্গে সহ-পরিচালক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, “এই বৈঠক যদি আদপে ফেডারেশনকে বাঁচানোর দাবিতে ডাকা হয়ে থাকে, তবে যাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাঁদের অনেকেই অতীতে নানা ধরনের হুমকি, তোলাবাজি এবং ট্রেড ইউনিয়ন বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। আমরা যদি বৈঠকে প্রবেশ করতে পারতাম, তবে ফেডারেশনের মূল কাঠামো ও কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক জোালালো প্রশ্ন তুলতাম, আর সেই সত্য ফাঁস হওয়ার ভয়েই আমাদের প্রবেশে সুকৌশলে বাধা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে টলিউডের এই ফেডারেশনটি কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। এর আগে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে নানা গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। একটি নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে ফেডারেশনের সম্পূর্ণ দেখভালের মূল দায়িত্ব লেবার কমিশনারেটের হাতে ন্যস্ত। তাহলে এই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি বৈঠক হঠাৎ করে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে কেন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটাই আমাদের প্রথম এবং প্রধান প্রশ্ন। ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি দেখার দায়িত্ব বা এখতিয়ার সংস্কৃতি দফতরের থাকতে পারে না।”
গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের সুরে সুর মিলিয়ে সিনেমাটোগ্রাফার সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “আমরাও এই ফেডারেশনের গর্বিত সদস্য। আমরা কখনোই চাই না যে ফেডারেশন ভেঙে যাক। আমরা চাই টলিপাড়ায় একটি সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ ফিরে আসুক। কিন্তু যাঁরা অতীতে স্বরূপ বিশ্বাসের বেআইনি সিন্ডিকেটের সক্রিয় অংশ ছিলেন, তাঁরা যদি পুনরায় ফেডারেশনের নেতৃত্বে ফিরে আসেন, তবে সাধারণ ও গরিব টেকনিশিয়ানদের পক্ষে স্টুডিওপাড়ায় কাজ পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ নতুন কাজ আনা বা সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর বিষয় নিয়ে এক বিন্দুও ভাবছেন না, সবাই কেবল কুর্সি ও পদ দখল করার লড়াইয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।”
তবে সরকারের সামগ্রিক ভূমিকার উপর আস্থা রেখে সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমাদের রাজ্য সরকারের উপর পূর্ণ ও অবিচল আস্থা রয়েছে। আমরা আন্তরিকভাবে চাই সরকার যেন সব পক্ষের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শুনে তারপর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আমাদের গভীর ভরসা আছে। তিনি যে নির্দেশই দেবেন, আমরা তা হাসিমুখে মেনে নেব।” পাশাপাশি তাঁর জোরালো আবেদন, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং যাঁদের নামে থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাঁদের যেন কোনো অবস্থাতেই ফেডারেশনের নেতৃত্বে বা ক্ষমতার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা না হয়। উল্লেখ্য, এই সংবাদে প্রকাশিত সমস্ত অভিযোগ ও মন্তব্য সংশ্লিষ্ট বক্তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত দাবি। এই বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মহলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।