ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার আর নয়! শিলাবতী নদীর উপর নিজেদের ২ লক্ষ টাকা খরচ করে গ্রামবাসীদের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, কেন নিতে হলো এই উদ্যোগ?

প্রশাসনিক দফতরে বারবার জানিয়েও মেলেনি সুরাহা। যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিনের ভোগান্তি যখন চরমে, তখন আর অপেক্ষা না করে নিজেরাই সমাধানের পথ খুঁজে বের করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দু’নম্বর ব্লকের নিত্যানন্দপুর এলাকার গ্রামের সাধারণ মানুষ। প্রায় ২ লক্ষ টাকা নিজেদের উদ্যোগে খরচ করে শিলাবতী নদীর উপর তৈরি করলেন একটি বাঁশের সাঁকো।
সম্প্রতি বন্যার কারণে শিলাবতী নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় নিত্যানন্দপুর এলাকায় নদীর উপরে থাকা অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোটি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছিল। এর ফলে কেসাডাল, পাচামি, দেওয়ান, কালিকাপুর-সহ একাধিক গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষকে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। সাঁকো ভেঙে যাও য়ায় নৌকা করে চলছিল ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, যা প্রতিদিনের জীবনে বড় আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল।
এলাকার সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে সমাধানের জন্য বারবার প্রশাসনিক দফতরে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।
গ্রামবাসীদের ২ লক্ষ টাকার উদ্যোগ
প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়ে এবার গ্রামবাসীরা নিজেরাই বাঁশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে যড়ি নদীর উপর যাতায়াতের জন্য নতুন সাঁকো। গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, এই সাঁকো তৈরি করতে তাঁদের প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে।
গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। চন্দ্রকোনা দু’নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অলক ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, “দুই ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় অস্থায়ী সাঁকোগুলি ভেঙে গিয়েছিল। বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসনের উদ্যোগে তা মেরামত করা হয়েছে। গ্রামের মানুষের সাঁকো তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”
তবে গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের মূল দাবি—ওই এলাকায় দ্রুত একটি কংক্রিটের ব্রিজ তৈরি হোক। যদিও প্রশাসনের তরফে বারে বারে পরিদর্শন করা হলেও কবে স্থায়ী ব্রিজ তৈরি হবে, সেই উত্তর এখনও কারও কাছে নেই।