একদিকে কাঠফাটা রোদে হাঁসফাঁস করা গরম, অন্যদিকে ঘূর্ণাবর্তের জেরে ধেয়ে আসা কালবৈশাখী—আগামী কয়েক দিন ঠিক এমনই চরম খামখেয়ালি আবহাওয়ার সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড এবং সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবেই রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ ঘটছে, যা একদিকে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি করছে বজ্রগর্ভ মেঘ।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির জন্য হাই-অ্যালার্ট:
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বর্তমানে দ্বিমুখী আবহাওয়া বিরাজ করছে। পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে পৌঁছাবে। দুপুরের দিকে লু বা তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিকেলের দিকেই বদলে যেতে পারে আকাশ। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ সংলগ্ন এলাকায়।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি:
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মালদহ এবং দুই দিনাজপুরেও বিকেলের পর আবহাওয়া পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের তাপমাত্রার পূর্বাভাস:
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও প্রায় ২° সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এই অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদের তীব্রতা সবথেকে বেশি থাকবে।
জনসাধারণের জন্য বিশেষ পরামর্শ ও সতর্কতা:
১. ডিহাইড্রেশন এড়ান: তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। ওআরএস (ORS) বা লেবুর জল পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
২. রোদে সতর্কতা: শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত একটানা রোদে কাজ করা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বাইরে বেরোলে ছাতা, টুপি এবং হালকা সুতির পোশাক ব্যবহার করুন।
৩. বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা: বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে বা গাছের তলায় না থেকে পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিন। ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।





