জ্বলছে লাদাখ! কী কী দাবি নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল লেহ, নেপথ্যে আসল কারণ কী?

দেশের এক সময়ের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ এখন উত্তাল। রাজধানী লেহ-তে বিক্ষোভ, হিংসা এবং কার্ফু জারি করা হয়েছে। ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’ (LAB) নামক এক স্বাধীন সংগঠনের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ চলছে, যাদের মূল দাবি লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বিক্ষোভের নেপথ্যে কী?

লাদাখের বাসিন্দাদের এই আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হয়নি, বরং গত চার বছর ধরে এই দাবি নিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রধান অসন্তোষের কারণ হলো, কেন্দ্র তাদের মূল দাবিগুলো উপেক্ষা করে শুধু কিছু গৌণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে।

আন্দোলনের মূল চারটি দাবি:

২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে বিভক্ত করে লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার পর থেকেই এই দাবিগুলো সামনে আসে:

রাজ্যের মর্যাদা: লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া, কারণ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা তাদের স্বশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি।

সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল: উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের অনন্য বৈশিষ্ট্য রক্ষা করতে লাদাখকে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনা।

পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন: বেকারত্ব দূর করতে এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য লাদাখের জন্য একটি পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন করা।

দুটি সংসদীয় আসন: কেন্দ্রে লাদাখের কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে লাদাখে দুটি সংসদীয় আসন গঠন করা। বর্তমানে এখানে মাত্র একটি আসন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক শুধুমাত্র শেষ দুটি দাবি নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অংশ থাকাকালীন লাদাখবাসীর প্রধান দাবি ছিল।

কেন ষষ্ঠ তফসিলের দাবি?

লাদাখের জনসংখ্যার ৯৭% উপজাতি সম্প্রদায়ের। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার মতো উপজাতি-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন পায়। এই তফসিলের অধীনে গঠিত স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (Autonomous District Council) আইন প্রণয়ন, কর সংগ্রহ, এবং স্থানীয় সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্ষমতা ভোগ করে। এই অধিকারগুলো পেলে লাদাখবাসীরা তাদের জমি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করে।

বেকারত্ব: এক বড় সমস্যা

বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হল তীব্র বেকারত্ব। সরকারি সমীক্ষা অনুসারে, লাদাখে স্নাতক ডিগ্রিধারী ২৬.৫% তরুণ-তরুণী বেকার, যা জাতীয় গড়ের (১৩.৪%) প্রায় দ্বিগুণ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, আন্দামান ও নিকোবরের পর বেকারত্বের হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লাদাখ। এই সমস্যার সমাধান করতে এবং স্থানীয়দের সরকারি চাকরি নিশ্চিত করতে তারা একটি পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের দাবি জানাচ্ছে।