জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মেগা আন্দোলনের ডাক! জরুরি বৈঠকে কোন বড় সিদ্ধান্ত?

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এবার আরও জোরালো এবং যৌথ আন্দোলনের পথে হাঁটছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। মঙ্গলবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে দেশের প্রথম সারির বিরোধী দলগুলির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এককভাবে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হলেও, এবার দেশজুড়ে একটি সুসংহত ও যৌথ কৌশল তৈরি করতেই এই জরুরি তলব করা হয়েছিল।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা ও আলোচনার বিষয়বস্তু এদিনের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
পদত্যাগ দাবি: জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে অপসারণ।
আইনগত লড়াই: সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পথে আন্দোলন জোরালো করা।
যৌথ কর্মসূচি: ‘ইন্ডিয়া’ জোটভুক্ত সমস্ত দলের যৌথ প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা ও রূপায়ন।
উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্তরের হেভিওয়েট নেতারা এদিনের এই মেগা বৈঠকে বিরোধী শিবিরের প্রায় সব প্রধান দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা, পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি, জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেন, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) নেতা উদ্ধব ঠাকরে এবং বাম শিবিরের ডি রাজা, এমএ বেবি, দীপঙ্কর ভট্টাচার্যদের মতো হেভিওয়েট নেতারা বৈঠকে যোগ দিয়ে যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।
দেশজুড়ে প্রতিবাদের বড় পরিকল্পনা সূত্রের খবর, দিল্লির এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। জানা যাচ্ছে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে খুব শীঘ্রই দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে একটি বিশাল জনসভার আয়োজন করা হতে পারে। শুধু দিল্লিই নয়, আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশ, কলকাতা, মুম্বই, পটনা ও হায়দরাবাদের মতো দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরেও যৌথভাবে মেগা র্যালি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধী জোটের এই সংঘাতে আগামী দিনে রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।