জোড়া নিম্নচাপের আশা থাকলেও কমছে মেঘের আনাগোনা! কোন বড় বিপদের ইঙ্গিত দেখছে আবহাওয়া দফতর?

বর্ষার ভরা মরসুমে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে হঠাৎ এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র দুই দিন আগেও স্যাটেলাইট চিত্রে ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর ঘন মেঘের চাদর ঝুলতে দেখা গিয়েছিল এবং আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী জোড়া নিম্নচাপের ফলায় একাধিক রাজ্য প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিগুলো সম্পূর্ণ এক অন্য চিত্র তুলে ধরছে। আবহবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের ওপরও এখন উল্লেখযোগ্যভাবে মেঘের পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। এই হঠাৎ পরিবর্তনের পেছনে ‘এল নিনো’ (El Niño)-র প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতির জেরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সামগ্রিক মৌসুমি বৃষ্টির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে।

তবে আশার কথা হলো, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে বৃষ্টি কমার তেমন কোনো বড় লক্ষণ নেই। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১৬ অগাস্টের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সহ সমগ্র পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই রাজ্যে এখনই বর্ষা দুর্বল হয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া মূলত বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া বিভিন্ন আবহাওয়া সিস্টেম এবং ঘূর্ণাবর্তের ওপর ওতপ্রোতভাবে নির্ভরশীল। বঙ্গোপসাগরে যখনই কোনো ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরি হয়, তখনই এই রাজ্যে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা ও উদ্বেগের। আবহবিদদের আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাবে দেশজুড়ে বর্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হতে পারে। ২০২৬ সালের বর্ষা শুরুর আগেই আবহাওয়া দফতর এল নিনো নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। বর্তমান স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আকাশের বুকে মেঘের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, আগামী দিনে দেশের মূল ভূখণ্ডে জলীয় বাষ্পের প্রবাহ মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। এর ফলে বর্ষার মরসুমে হঠাৎ করেই একটি দীর্ঘ বিরতি বা ব্রেক মানসুন (Break Monsoon) দেখা দিতে পারে।

পাশাপাশি, মৌসুমী অক্ষরেখাও ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের উত্তরাংশের সমতল রাজ্যগুলিতে বর্ষার দাপট অনেকটাই কমে যেতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে দিল্লি-এনসিআর, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। যদিও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর বঙ্গোপসাগরের বিশেষ প্রভাব থাকায় এখানে বৃষ্টির ধারা আপাতত অব্যাহত থাকারই কথা। সব মিলিয়ে, দেশের সামগ্রিক আবহাওয়ায় এক অদ্ভুত দোলাচল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।