২০২৬-এর নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হলো ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি। আর এই কেন্দ্রের দখল নিতে এবার সবথেকে বড় বাজিটি ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মা। এলাকায় প্রচারে বেরিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর যদি এই এলাকাকে পুরসভায় রূপান্তরিত করতে না পারেন, তবে তিনি রাজনীতি থেকেই বিদায় নেবেন।
কী এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ প্রতিশ্রুতি? শিলিগুড়ি সংলগ্ন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকাটি ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকাকে পঞ্চায়েত থেকে উন্নীত করে একটি পৃথক পুরসভা (Municipality) গঠন করা হোক। রঞ্জন শীল শর্মার দাবি:
উন্নয়নের চাবিকাঠি: পুরসভা হলে এলাকার রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা এবং নাগরিক পরিষেবা একধাক্কায় অনেক উন্নত হবে।
চরম হুঁশিয়ারি: তিনি কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাজি রেখে বলেছেন, “বিধায়ক হয়ে যদি পুরসভা করে দিতে না পারি, তবে আর রাজনীতি করব না। রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেব।”
বিজেপি দুর্গে থাবা বসানোর কৌশল? ২০২১-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছিল এবং বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায় জয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল। রঞ্জন শীল শর্মা আসলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগকে (পুরসভা গঠনের দাবি) উসকে দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
পাল্টা আক্রমণ বিরোধীদের: তৃণমূল প্রার্থীর এই ঘোষণার পর কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “দশ বছর ক্ষমতায় থেকেও যা করেনি তৃণমূল, এখন ভোটের মুখে তা নিয়ে নাটক করা হচ্ছে।” তবে রঞ্জনবাবুর এই ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাস’-এর চ্যালেঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন দেখার, ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলে এই ‘চরম প্রতিশ্রুতি’ রঞ্জন শীল শর্মাকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির সিংহাসনে বসাতে পারে কি না।





