মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে চিন সফরে। আর সেই সফরের মাঝেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন তিনি। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে জো বাইডেন প্রশাসনকে তুলোধনা করলেন ট্রাম্প। জিনপিং যে আমেরিকাকে ‘পতনশীল দেশ’ (Declining Nation) বলে অভিহিত করেছিলেন, ট্রাম্পের দাবি— সেই মন্তব্য আসলে বাইডেনের চার বছরের শাসনামলের ‘ব্যর্থতা’র দিকেই ইঙ্গিত করে বলা।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “প্রেসিডেন্ট শি যখন খুব মার্জিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পতনশীল দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, তখন তিনি ‘স্লিপি জো বাইডেন’-এর চার বছরের শাসনে আমাদের যে সব ক্ষতি হয়েছে, সে কথাই বলছিলেন।” ট্রাম্পের নিশানায় ছিল বাইডেন আমলের খোলা সীমান্ত নীতি, উচ্চ করের বোঝা, সামাজিক নীতিতে বদল এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা। তিনি অভিযোগ করেন, মহিলাদের খেলায় পুরুষদের অংশগ্রহণ কিংবা ডিইআই (DEI)-এর মতো ‘দেশ ধ্বংসকারী’ নীতির কারণে আমেরিকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
তবে শুধু সমালোচনা নয়, ট্রাম্প নিজের আমলের সাফল্যের খতিয়ানও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার শাসনামলেই আমেরিকা বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শেয়ার বাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো, ইরানের সামরিক শক্তি খর্ব করা এবং ভেনেজুয়েলায় জয়— এই সবকিছুর কৃতিত্ব নিজের ঝুলিতেই রেখেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, চিনা প্রেসিডেন্ট নিজেও তার এই অবিশ্বাস্য উত্থানে মুগ্ধ হয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বেজিংয়ে আয়োজিত একটি রাজকীয় নৈশভোজে শি জিনপিংয়ের সুর ছিল যথেষ্ট নমনীয়। জিনপিং মন্তব্য করেন যে, চিনের ‘মহান পুনরুত্থান’ এবং আমেরিকার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যমাত্রা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। ট্রাম্পও আশাবাদী যে, চিনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হবে। বর্তমানে দুই দেশের এই ‘বন্ধুত্ব’ বিশ্ব রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





