জাপানে আঘাত হানল ৬.৯ মাত্রার ভূকম্পন, পারমাণবিক কেন্দ্র কি সুরক্ষিত?

ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে জাপান। বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে ৬.৯ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। কম্পনের তীব্রতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আওমোরি প্রিফেকচারসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। তবে স্বস্তির খবর হলো, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি এবং কোনো সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
কোথায় ছিল উৎপত্তিস্থল?
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলবর্তী সমুদ্রের তলদেশে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের তীব্রতায় আওমোরি প্রিফেকচারে সর্বোচ্চ ‘৬-প্লাস’ মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই তীব্রতায় মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা বা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পারমাণবিক পরিকাঠামো ও পরিষেবা পরিস্থিতি:
বিপজ্জনক এই কম্পনের পর জনমনে স্বাভাবিকভাবেই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে তোহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ওনাগাওয়াসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। জাপান পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের সব পারমাণবিক পরিকাঠামো আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কিছু পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে প্রশাসন:
রেল পরিষেবা: নিরাপত্তার খাতিরে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে। তোহোকু শিনকানসেন বুলেট ট্রেন পরিষেবাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সড়ক পথ: আওমোরি অঞ্চলের কয়েকটি এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া:
জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারির জন্য একটি জরুরি টিম গঠন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকা জাপানে ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প নতুন নয়। ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি আজও জাপানের মানুষের মনে আতঙ্ক জাগায়। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই আজ প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে জাপান প্রশাসন।