জাপানি মিয়াজাকি থেকে ‘ব্যানানা কিং’! পূর্বস্থলীর নার্সারিতে হাতের নাগালে বিদেশের নামী আম

বাংলার আমের জগতে এবার বিপ্লব। হিমসাগর বা ল্যাংড়ার সুখ্যাতিকে ছাপিয়ে বর্তমানে আমপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তের বিদেশি প্রজাতির আম। আর এই বিরল আমের চারা পাওয়ার জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী স্টেশনের কাছেই গড়ে উঠেছে এক অভূতপূর্ব নার্সারি। শঙ্কর দত্তের এই নার্সারিতে এখন মিলছে ৩০টিরও বেশি বিদেশি প্রজাতির আমগাছের চারা, যা দেখে রীতিমতো বিস্মিত এলাকাবাসী।

বিশ্বের আম এখন ঘরের কাছে:
নার্সারিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে জাপান, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, চিন, আমেরিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সব আমের সম্ভার। শুধু বহুচর্চিত ‘মিয়াজাকি’ নয়, এখানে রয়েছে চিয়াং মাই, রেড আইভরি, ন্যাম ডক মাই, টমি আটকিনস, পালমার, ব্যানানা কিং এবং থ্রি টেস্ট-এর মতো আকর্ষণীয় সব জাত। শঙ্কর দত্ত গত ২০ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন এই সংগ্রহশালা। শুরুতে বাংলাদেশ থেকে চারা সংগ্রহ করলেও, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উন্নত মানের চারা আমদানি করছেন তিনি।

বৈচিত্র্যে ভরপুর বিদেশি আম:
পূর্বস্থলীর এই নার্সারির প্রতিটি আমের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। কোনো আম ওজনে ২ কেজিরও বেশি, আবার কোনোটি আকৃতিতে লম্বাটে, ঠিক যেন কলা! সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো ‘থ্রি টেস্ট’ প্রজাতির আম, যার একটি আমেই পাওয়া যায় তিন ধরনের ভিন্ন স্বাদ। এই বিরল জাতের আম শুধু শখের বাগানের জন্যই নয়, বাণিজ্যিক দিক থেকেও অত্যন্ত লাভজনক। দেশি আম বছরে সাধারণত একবার ফল দিলেও, বিদেশি অনেক জাত বছরে একাধিকবার ফলন দেয়। এছাড়া বাড়ির ছাদে বা টবেও অনায়াসেই বড় করা সম্ভব এই গাছগুলো।

কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা:
প্রথাগত চাষের বাইরে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন যে চাষিরা, তাঁদের জন্য বিদেশি আমের এই চারা এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অল্প জায়গায় অধিক ফলন এবং বাজারের চাহিদা—সব মিলিয়ে বিদেশি আমের চাষে আগ্রহ বাড়ছে পূর্ব বর্ধমানসহ রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষের। হিমসাগর বা ল্যাংড়ার পাশাপাশি বিদেশি আমের এই চারা এখন পূর্বস্থলীর নার্সারিকে এক অনন্য পর্যটন ও কৃষি গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলেছে। শখের বাগান হোক বা লাভজনক ব্যবসা, বিদেশি আমের এই স্বাদ এবং বৈচিত্র্য এখন বাঙালির হাতের নাগালে।