জানতে পারেন স্ত্রী, স্বামীর বেতন কত, কী বলছে আইন, জানুন অবাক করা তথ্য

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো বিশ্বাস এবং স্বচ্ছতার। বলা হয়, এই সম্পর্কে কোনো কিছুই গোপন থাকা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেকেই নিজের সঠিক বেতন স্ত্রীকে জানাতে চান না। প্রশ্ন হলো, একজন স্ত্রীর কি স্বামীর বেতন জানার আইনি অধিকার আছে? সম্প্রতি আদালতের কয়েকটি রায় এই বিষয়ে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
আইন কী বলে?
তথ্য জানার অধিকার বা ‘রাইট টু ইনফরমেশন (RTI)’ আইন অনুযায়ী, একজন স্ত্রী তার স্বামীর বেতন কত তা জানতে পারেন। তবে এটি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
২০১৮ সালে মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টে সুনীতা জৈন বনাম পবন কুমার জৈন মামলায় আদালত রায় দিয়েছিল যে, স্বামীর বেতন জানার অধিকার স্ত্রীর আছে, বিশেষ করে যদি এই তথ্য ভরণপোষণের দাবির জন্য ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে স্বামীর বেতনকে ‘তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তিগত তথ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
এরপর ২০২০ সালে রেহমত বানু বনাম সিপিআইও মামলায় আদালত ১৫ দিনের মধ্যে স্বামীর আয়কর এবং বেতনের তথ্য স্ত্রীকে জানানোর নির্দেশ দেয়। আদালত উল্লেখ করে যে, এই তথ্য বৈবাহিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০২৪ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্টে জয়া প্রকাশ বনাম এ আনন্দ মামলাতেও একই ধরনের রায় দেওয়া হয়। আদালত জানায়, ভরণপোষণের দাবি করার জন্য স্বামীর বেতন জানার অধিকার স্ত্রীর আছে।
সবক্ষেত্রে কি তথ্য পাওয়া যায়?
১. সরকারি চাকরি: যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরি করেন, তাহলে তার বেতনকে ‘পাবলিক রেকর্ড’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেক্ষেত্রে RTI-এর মাধ্যমে তার বেতন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব।
২. বেসরকারি চাকরি: কোনো ব্যক্তি যদি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন, তাহলে তার বেতন সংক্রান্ত তথ্য RTI করে জানা যায় না। কারণ, এটি পাবলিক রেকর্ড নয়।
৩. বৈধ কারণ: যদি কোনো বৈধ কারণ ছাড়া শুধু ব্যক্তিগত কৌতূহলের জন্য তথ্য জানতে চাওয়া হয়, তাহলে সেই RTI আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
সুতরাং, আইন অনুযায়ী একজন স্ত্রী তার স্বামীর বেতন জানার অধিকার রাখেন, তবে তার জন্য একটি বৈধ আইনি কারণ থাকতে হবে, যেমন ভরণপোষণ বা অন্য কোনো আইনি বিষয়।