‘জাতপাত ভুলে বিয়ে করুন!’ মোহন ভাগবতের এক বার্তায় তোলপাড় দেশ, বিপাকে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি?

ভারতের সামাজিক কাঠামোয় জাতপাত ও বৈষম্য চিরকালই একটি জটিল ইস্যু। কিন্তু এবার সেই বৈষম্যের মূলে কুঠারাঘাত করতে এক বৈপ্লবিক বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজ থেকে জাতপাতের বিভেদ সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে গেলে আন্তঃবর্ণ বিবাহ বা ইন্টার-কাস্ট ম্যারেজ অত্যন্ত জরুরি। ভাগবতের এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

কর্নাটকের মহীশূরের জেএসএস মহাবিদ্যাপীঠে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সঙ্ঘ প্রধান সরাসরি রাজনীতিকদের এক হাত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ থাকলে তবেই রাজনীতিকরা তার সুবিধা নিতে পারেন। ভাগবত বলেন, “রাজনীতিবিদরা জাতপাতের ফয়দা তোলেন। অনেক সময় কাজ করে ভোট না পেলেও জাতপাতের সুড়সুড়ি দিয়ে তাঁরা ভোট বৈতরণী পার হয়ে যান। সমাজ যদি এই বিভেদ ভুলে যায়, তবে রাজনীতিও নিজে থেকে শুদ্ধ হয়ে যাবে।”

মোহন ভাগবত সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, কেবল সংবিধান বা আইনের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যাঁরা জাতপাতের দেওয়াল ভেঙে আন্তঃবর্ণ বিবাহ করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর এবং উৎসাহ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এমনভাবে চলুন যেন জাতপাতের কোনও অস্তিত্বই নেই। আইন ও সংবিধানের বাইরে গিয়েও যাবতীয় ইতিবাচক পদক্ষেপকে সমর্থন করুন।”

এই প্রসঙ্গে আরএসএস-এর দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক এম এস গোলওয়ালকারের একটি ঐতিহাসিক উদাহরণও টেনে আনেন তিনি। ভাগবত জানান, ১৯৪২ সালে মহারাষ্ট্রে প্রথম আয়োজিত একটি আন্তঃবর্ণ বিবাহ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন স্বয়ং বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং গোলওয়ালকার। গোলওয়ালকার সেই সময় লিখেছিলেন যে, এই ধরনের বিয়ে কেবল ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণ নয়, বরং সমাজের সামনে এক বড় উদাহরণ যে ‘জাতপাত বলে কিছু নেই’।

সবশেষে দৈনন্দিন আচরণ ও কথাবার্তাতেও পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন সঙ্ঘ প্রধান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আমাদের অজান্তেই অনেক সময় এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করি যা অন্যের মনে বৈষম্যের সৃষ্টি করে। বড় বড় ভাষণের চেয়ে ছোট ছোট পদক্ষেপ এবং সংযত আচরণের মাধ্যমে একাত্মবোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।