জলের নিচে মুম্বই, ধসে ধুমড়ে মুচড়ে তিনতলা বাড়ি, বৃষ্টির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ৭ ছাড়াল!

প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বই। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাণিজ্যনগরীর জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। রবিবার রাতে মানখুর্দ এলাকায় একটি তিনতলা ভবন আচমকা ভেঙে পড়লে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও একজন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, উদ্ধারকাজ চলাকালীন আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মানখুর্দের এই দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই মুম্বইয়ের নবপদা এলাকায় একটি দোকানের ওপর বিশাল গাছ ভেঙে পড়ায় আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বইয়ে বৃষ্টির বলি হয়েছেন অন্তত সাতজন।

রবিবার গভীর রাতে মানখুর্দের ওই বাড়িটি ভেঙে পড়লে স্থানীয়দের চিৎকারে এলাকাবাসীরা বেরিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), দমকল এবং স্থানীয় পুলিশকে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা ছয়জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে শতাব্দী হাসপাতালে এবং একজনকে রাজৌরি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর নবনাথ বান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রবল বৃষ্টি ও ধসের জেরে মুম্বই-পুণে লাইনে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক স্বপ্ননীল নিলা জানিয়েছেন, লোনাভালা ও দক্ষিণ-পূর্ব ঘাট স্টেশনের মাঝামাঝি ঠাকুরদি এলাকায় রেললাইনের ওপর ধস নেমেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার খাতিরে সিএসএমটি-পুনে ইন্দ্রায়ণী এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান কুইনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অনেক ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে হেল্পলাইন চালু করেছে মধ্য রেল।

বাণিজ্যনগরীর পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সরকার সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে আজ ছুটি ঘোষণা করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরও কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি চলবে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। রেল কর্তৃপক্ষ সিএসএমটি (০২২-২২৬৯৪০৪০), থানে (৯৩২১৩৩৬৭৪৭), লোনাভালা (৮৩৫৬৮৫৪৩৩৮) এবং দাদরের (৯১৩৬৪৫২৩৮৭) জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে। উদ্ধারকাজ চলছে, তবে দুর্যোগের তীব্রতায় নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।