“জলের তলায় রেললাইন!”-ট্রেন বাতিলের জেরে চূড়ান্ত নাকাল সাধারণ মানুষ!

সোমবার সন্ধ্যায় নামা ভারী বর্ষণের জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে রেললাইন। আর তার জেরে সপ্তাহের শুরুতেই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলো ট্রেন পরিষেবা। মঙ্গলবার সকালেও রেললাইন থেকে সম্পূর্ণ জল না নামায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের রুট সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, যার ফলে অফিস টাইমে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।

ঠিক কী কারণে ঘটল এই বিপর্যয়?

রেল সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার মুষলধারে বৃষ্টির কারণে দমদম থেকে কলকাতা টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ রেললাইনে জল জমে যায়। জলমগ্ন লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ায় নিরাপত্তাতি স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও রেলের তরফে জানানো হয়েছে যে, পাম্পের সাহায্যে দ্রুত লাইন থেকে জল সরানোর কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

কোন কোন ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে?

হঠাৎ করে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং আগাম কোনো বড় ঘোষণা না থাকায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা:

  • বনগাঁ-মাঝেরহাট লোকাল: মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের ডাউন বনগাঁ-মাঝেরহাট লোকালটি তার নির্দিষ্ট গন্তব্য মাঝেরহাট পর্যন্ত না গিয়ে মাঝপথেই অর্থাৎ বারাসত স্টেশন পর্যন্ত চালানো হয়।

  • ব্যারাকপুর-বিবাদী বাগ লোকাল: সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের ব্যারাকপুর-বিবাদী বাগ লোকালটির যাত্রাপথও আংশিক বাতিল করা হয়। ট্রেনটিকে দমদম থেকে বিবাদী বাগ পর্যন্ত বাতিল করে কেবল ব্যারাকপুর থেকে দমদম পর্যন্ত চালানো হয়েছে।

নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ

সকালের ব্যস্ততম অফিস সময়ে হঠাৎ এমন রুট কাটছাঁটের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। ভুক্তভোগী নিত্যযাত্রী শীর্ষেন্দু কোলে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “সকালে এই সময়ে বনগাঁ-শিয়ালদহ ডাউন লাইনে এমনিতেই ট্রেনের সংখ্যা কম থাকে। এর মধ্যে একটি ট্রেন হঠাৎ বারাসত পর্যন্ত চালানোয় গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” যাত্রীদের অভিযোগ, এই ধরনের রুট পরিবর্তনের খবর যদি আগে থেকে ঘোষণা করা হতো, তবে তাঁরা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে গন্তব্যে পৌঁছতে পারতেন। কিন্তু আগাম কোনো সতর্কতা বা বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।