পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার চেয়ে জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান বেশি হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফলে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তবে জয়ের ব্যবধান যদি ৫ শতাংশের কম হয়, তবে আদালত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
ভোটার তালিকায় ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’: সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি বাগচি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় কিছু “যৌক্তিক অসঙ্গতি” চিহ্নিত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, কমিশন কেন কেবল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সন্দেহজনক ভোটারদের একটি আলাদা তালিকা তৈরি করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ভোট দেওয়ার অধিকার কেবল সাংবিধানিক নয়, এটি একটি আবেগের বিষয়।
২০০২ সালের তালিকা নিয়ে বিতর্ক: আদালতে উঠে আসে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার প্রসঙ্গ। বিচারপতি বাগচি পর্যবেক্ষণ করেন যে, কমিশনের মূল বিজ্ঞপ্তি ২০০২ সালের তালিকার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করলেও, পরবর্তী ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ তালিকায় অনেককে বাতিলের কারণ হিসেবে ২০০২ সালের নথির কথা বলা হয়েছে। কমিশন যখন দাবি করে যে ভোটারদের প্রমাণ করতে হবে তারা ২০০২ সালের তালিকার একই ব্যক্তি, তখন বিচারপতি বাগচি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা পূর্বের অবস্থান থেকে সরে আসছেন।”
আদালতের কড়া অবস্থান: কমিশন জানায় যে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দেওয়া সিদ্ধান্তের ৪৭ শতাংশ বাতিল হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানায়, ত্রুটি সংশোধন করার জন্য একটি শক্তিশালী আপিল ফোরামের প্রয়োজন। তবে বিচারপতি কান্ত স্পষ্ট করে দেন যে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালের ওপর আদালত কোনো সময়সীমার চাপ সৃষ্টি করবে না। আবেদনকারীদের ট্রাইব্যুনালে গিয়েই নিজেদের বক্তব্য প্রমাণ করতে হবে।





