পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর যখন রাজ্যজুড়ে গেরুয়া আবির আর জয়ধ্বনিতে উৎসবের মেজাজ, ঠিক সেই মুহূর্তেই দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের লোগো বা পতাকা ব্যবহার করে কোনও ধরণের অরাজকতা বা অশান্তি সৃষ্টি যে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। মূলত, জয়ের আবেগে ভেসে গিয়ে রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় দলীয় কর্মীদের একাংশের অসংযত আচরণের অভিযোগ আসতেই এই কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব।
শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, “কিছু জায়গায় মানুষ বিজেপির পতাকা নিয়ে ভাঙচুর বা অশান্তিতে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আমরা এই ধরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, যদি আমাদের দলের কোনও স্তরের কর্মী এমন অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে দল তাঁকে বহিষ্কার করতে দ্বিধাবোধ করবে না।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, ক্ষমতায় আসার শুরুতেই প্রশাসন ও দলের ভাবমূর্তি নিয়ে কোনও আপস করতে রাজি নয় বিজেপি।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় তৃণমূল শাসনের পর বাংলায় যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে, তাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এই উৎসবের আবহে কিছু অতি-উৎসাহী কর্মীর হাতে প্রতিপক্ষের পোস্টার ছেঁড়া বা অফিস ভাঙচুরের মতো ঘটনা জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শমীক ভট্টাচার্য কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “সারা দেশ বাংলার এই জয় উদযাপন করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি প্রান্তের কর্মী এই ফলাফলকে ‘পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, এখন আমাদের সামনে দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই সময়োচিত বার্তা দলের পরিণত রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ের পর বিজয়ীদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার যে সংস্কৃতি বাংলায় দেখা গিয়েছে, বিজেপি সেই পথে হাঁটতে চাইছে না। বরং শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে একটি স্বচ্ছ সরকার উপহার দেওয়াই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাই বিজেপির প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, তার বাস্তবায়নে দলের শৃঙ্খলা যে অপরিহার্য, সভাপতির এই হুঁশিয়ারি সেই বার্তাই পৌঁছে দিল নিচুতলার কর্মীদের কাছে।





