জয়েন্টের মেধাতালিকার সেরা দশে নেই কোনও মেয়ে, তবে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ভরসা?

রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মেধাতালিকার প্রথম দশ জনের মধ্যে কোনো মেয়ের নাম না থাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেছিলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার মেয়েরা উচ্চশিক্ষায় অনেক এগিয়ে গেছে এবং এমনকি বিদেশেও কাজ করছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর জয়েন্টের ফলে মেয়েদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জয়েন্টের ফলে মেয়েদের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে সমালোচকরা কয়েকটি বিষয় তুলে ধরছেন:
আর্থ-সামাজিক অবস্থা: অনেকে মনে করছেন, রাজ্যের বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মেয়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে তারা উচ্চশিক্ষা বা কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সরকারের দুর্নীতি: সমালোচকদের একাংশ সরকারের দুর্নীতি এবং ওবিসি সার্টিফিকেট নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনকেও এর জন্য দায়ী করছেন। তাঁরা বলছেন, এই সমস্যার কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়েছে এবং এর ফলে তাড়াহুড়ো করে তালিকা প্রকাশ করায় ভুলভ্রান্তি থেকে থাকতে পারে।
ওবিসি জটিলতা: ফলপ্রকাশের আগে ওবিসি সংরক্ষণের মামলায় হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর জারি করা প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছিল। আদালত বলেছিল, নতুন তালিকা তৈরির জন্য আইন অনুযায়ী সমীক্ষা ও বিধানসভার অনুমোদন প্রয়োজন। এই কারণে ফল প্রকাশ আটকে ছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিলে অবশেষে ফল প্রকাশ সম্ভব হয়।
ফল প্রকাশে দেরিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র বিতর্ক। রাম থেকে বাম, সবাই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, এই তাড়াহুড়োর কারণে মেধাতালিকায় কোনো মেয়ের নাম আসেনি, যা সাধারণত প্রতি বছর দেখা যায়।
কারণ যাই হোক না কেন, সমালোচকরা বলছেন যে মুখ্যমন্ত্রী মেয়েদের উন্নয়নের কথা বললেও, বাস্তবে তাদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পরিবর্তে শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের উপরই ভরসা করতে হচ্ছে।