বিয়ে ছাড়াই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত! আইভিএফ ফেল করার পরেই স্বরা ভাস্করের জীবনে এল কোন বড় চমক?

বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের জীবনের গল্প যেন রূপকথার সিনেমাকেও হার মানায়। সমাজের প্রচলিত ছক ও চেনা নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বরাবরই নিজের শর্তে বেঁচেছেন তিনি। একটা সময় স্বরা নিজে ধরেই নিয়েছিলেন যে তাঁর জীবনে আর হয়তো কোনোদিন বিয়ে হবে না, কিন্তু তাঁর মনে মা হওয়ার সুপ্ত বাসনা ছিল প্রবল। জীবনসঙ্গী না জুটলেও মাতৃত্বের স্বাদ থেকে নিজেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করতে চাননি তিনি। সঠিক মানুষের অপেক্ষায় সময় নষ্ট না করে, বিয়ের আগেই সিঙ্গেল মাদার হওয়ার মতো এক অত্যন্ত সাহসী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর দ্বিতীয় সিজনে এসে নিজের জীবনের এই না বলা ও অজানা অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন স্বরা। তিনি জানান, একা হাতে সন্তান মানুষ করার পরিকল্পনা করে তিনি নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। বাবা-মাকে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছিলেন, “আমার তো আর বিয়ে হওয়ার নয়, তাই আইভিএফ (IVF) পদ্ধতি সাহায্য নিয়েই সন্তান নেব।” মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে প্রথমে রীতিমতো স্তম্ভিত ও চমকে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। ভারতের মতো রক্ষণশীল সমাজে একা একজন মেয়ের পক্ষে সন্তান লালনপালন করা কতটা কণ্টকাকীর্ণ ও কঠিন, সে কথাও তাঁরা মেয়েকে বুঝিয়েছিলেন। তবে স্বরার অদম্য জেদ ও দৃঢ় ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন তাঁরা এবং মেয়ের এই কঠিন সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন জানান।
মা হওয়ার অদম্য তাগিদে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন স্বরা। এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির শুক্রাণু বা স্পার্ম ডোনারের (Anonymous Donor) সাহায্য নিয়ে আইভিএফ পদ্ধতিতে মা হওয়ার লড়াই শুরু করেন। কিন্তু কভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পর পর দু’বার ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয় তাঁকে। আইভিএফ প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে যখন তাঁর সমস্ত আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে আসে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় মোড়।
কথায় আছে, জীবন কখন কোন পথে বাঁক নেবে তা কেউ জানে না। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে যুবনেতা ফাহাদ আহমেদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয় স্বরার। কাজের সুবাদে তৈরি হওয়া সেই পরিচয় ক্রমশ গভীর বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমে রূপ নেয়। সম্পর্কের পারদ এত দ্রুত উর্ধ্বমুখী হয় যে ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা আইনি মতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বরা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তাঁর জীবনে বিয়ে এবং মা হওয়ার সুখবর প্রায় একই সঙ্গে এসেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের কোল আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান রাবিয়া। একসময় যে স্বরা সমাজকে উপেক্ষা করে একা মা হওয়ার জন্য আইভিএফ-এর কঠিন লড়াই লড়েছিলেন, আজ তিনি স্বামী ফাহাদ আহমেদ ও মেয়ে রাবিয়াকে নিয়ে এক সুখী ও পরিপূর্ণ সংসারের অধিকারিণী। জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাঁর এই মাতৃত্বের সফর আজ বহু মানুষের কাছেই এক অন্যরকম অনুপ্রেরণা।