জনপ্রিয়তার নেশা, মরা গাছের মগডালে তরুণীর রিল শুট, নেটিজেনদের তীব্র নিন্দা

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি জনপ্রিয়তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখন আট থেকে আশি সকলের মধ্যেই প্রবল। লাইক, কমেন্ট, আর শেয়ারের লোভে মানুষ এমন সব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন, যা দেখে অনেকেই আঁতকে উঠছেন। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক তরুণী নিজের জীবন বাজি রেখে মরা গাছের মগডালে উঠে রিল শুট করেছেন, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক তরুণী লাল শাড়ি পরে একটি মরা গাছের মগডালে উঠে বসে আছেন। যেকোনো মুহূর্তে ডাল ভেঙে পড়ে তার গুরুতর আহত বা মৃত্যু হতে পারতো, কিন্তু জনপ্রিয় হওয়ার এই নেশা তাকে ঝুঁকির কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। শাড়ি পরে গাছে ওঠার সময়ও বড় বিপদ ঘটতে পারত, কিন্তু তিনি সে সবের তোয়াক্কা করেননি।
ওই তরুণী নিজেকে “গাছের রানি” বলে সম্বোধন করে ভিডিওতে একটি সংলাপ বলেছেন: “আমি গাছের রানি। আর এত তাড়াতাড়ি শেষ হবে না আমার কাহিনি। সেনাপতি, রাজ্যবাসীকে গিয়ে খবর দাও, গাছের শুধুমাত্র একজনই রানি। সে মহারানি। তাই কেউ কখনও গাছের উপর নিজেদের অধিকার দাখিল করতে পারবে না। গাছেদের উপর শুধুমাত্র আমার অধিকার রয়েছে। গাছেদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করাও আমার কাজ। আজ থেকে শুরু হল আমি প্রতিশোধ নেওয়ার কাহিনি!”
তরুণী হয়তো মজার ছলেই এবং গাছপালার প্রতি নিজের ভালোবাসা বোঝাতে এই ভিডিওটি বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। ভিডিওটি ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ১৪ মিলিয়ন মানুষ দেখেছেন এবং অধিকাংশ দর্শকই তরুণীর এই বিপজ্জনক কাজের তীব্র নিন্দা করেছেন।
একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “লাইকের নেশাই সর্বনাশ। নিজেদের জনপ্রিয়তার জন্য পিছুটান ভুলে যান। এমনকী পরিবারের কথাও ভাবেন না। এই মগডাল থেকে নীচে পড়লেই মৃত্যু নিশ্চিত। অথচ তরুণীর প্রাণে কোনো ভয় নেই!” আরেকজন লিখেছেন, “কোথাকার জীব এরা। কোথা থেকে আসে? যা ইচ্ছে তাই বানিয়ে জনপ্রিয় হতে চায়!”
কেউ কেউ এই ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন, “গাছটি বোধহয় পাহাড়ের খাদের ধারে। গাছটি মরাও। কোনো পাতা নেই। বর্ষার সময় এই গাছগুলি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।” আবার অনেকে মজা করে লিখেছেন, “বাহুবলি সিনেমায় আপনাকেই কাস্ট করা উচিত ছিল। অনেকের থেকে ভালো অভিনয় করতেন।” আরেকজন লিখেছেন, “গাছের রানি, নীচে শেষ কাহানি।”
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় মানুষকে কীভাবে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে, যেখানে জীবনের মূল্যও গৌণ হয়ে দাঁড়ায়।